সময় বদলের সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের খাবারের পছন্দেও এসেছে বড় পরিবর্তন। বার্গার, পিজা, ফ্রাই ও নানা ধরনের প্রসেসড খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ায় অনেক শিশুই সবজি খেতে চায় না। রঙিন প্যাকেট, মজার আকার আর দ্রুত পরিবেশনের সুবিধায় ফাস্ট ফুড হয়ে উঠছে তাদের প্রথম পছন্দ। ফলে নীরবে খাবারের তালিকা থেকে বাদ পড়ছে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় উপাদান—সবজি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবজি না খাওয়ার প্রভাব একদিনে বোঝা না গেলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও কর্মশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অভিভাবকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো—জোর না করে কীভাবে শিশুকে সবজির সঙ্গে অভ্যস্ত করা যায়।
বাস্তবতা হলো, বেশিরভাগ শিশুই সবজির স্বাদ বা গন্ধে আগ্রহী নয়। অনেক সময় প্লেটে সবজি দেখলেই তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়। আবার জোর করে খাওয়াতে গেলে খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যায় রূপ নিতে পারে। ফলে সমাধান খুঁজতে হলে দরকার কৌশলী ও ধৈর্যপূর্ণ পদ্ধতি।
শিশুদের সবজি খাওয়াতে কার্যকর কিছু উপায়
পরিচিত খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া
খিচুড়ি, নুডলস, পাস্তা, অমলেট বা স্যান্ডউইচে ছোট করে কাটা সবজি মিশিয়ে দিলে শিশুরা অনেক সময় বুঝতেই পারে না যে তারা সবজি খাচ্ছে।
আকর্ষণীয়ভাবে পরিবেশন
সবজি দিয়ে মজার আকার বানানো, রঙিন প্লেট ব্যবহার করা বা খাবারের সঙ্গে গল্প জুড়ে দিলে শিশুদের আগ্রহ বাড়ে।
ডিপ বা স্প্রেডের ব্যবহার
গাজর, শসা বা সেদ্ধ সবজি হালকা ডিপ বা স্প্রেডের সঙ্গে দিলে স্বাদ বাড়ে, শিশুরাও সহজে খেতে রাজি হয়।
নিজে খেয়ে উদাহরণ তৈরি করা
শিশুরা বড়দের অনুকরণ করে। পরিবারে সবাই নিয়মিত সবজি খেলে শিশুরাও ধীরে ধীরে সেটাকে স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করে।
জোর না করে ধীরে অভ্যাস গড়া
একদিনে সবজি খাওয়াতে না পারলে হতাশ না হয়ে অল্প অল্প করে নিয়মিত দেওয়াই সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি।
পুষ্টিবিদদের মতে, আজকের বাস্তবতায় শিশুদের পুরোপুরি ফাস্ট ফুড থেকে দূরে রাখা কঠিন হলেও পরিচিত খাবারের মধ্যেই পুষ্টির সমাধান খুঁজে নেওয়া সম্ভব। সঠিক পরিকল্পনা ও ধৈর্য থাকলে শিশুর খাবারের তালিকায় সবজি ধীরে ধীরে জায়গা করে নিতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, শিশুদের সবজি খাওয়ানো অসম্ভব নয়—প্রয়োজন শুধু শিশু-বান্ধব পদ্ধতি, সৃজনশীল পরিবেশন আর অভিভাবকদের ধৈর্য। আজকের ছোট অভ্যাসই ভবিষ্যতে গড়ে তুলতে পারে সুস্থ ও শক্তিশালী জীবনযাপন।
সিএ/এমআর


