পিত্তথলিতে পাথর বা ‘গলব্লাডার স্টোন’ একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা, যা অনেকেই সময়মতো সনাক্ত করতে পারেন না। যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস চর্বি হজমে সাহায্য করে এবং এটি পিত্তথলিতে সংরক্ষিত হয়। তবে পিত্তরসের উপাদানগুলোর ভারসাম্যহীনতা—বিশেষ করে কোলেস্টেরল বা বিলিরুবিনের অতিরিক্ত উপস্থিতি অথবা পিত্তথলির যথাযথ খালি না হওয়া—পিত্তরস ঘন হয়ে জমাট বাঁধার ফলে পাথর সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, “এই সমস্যা পুরুষের তুলনায় নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, স্থূলকায় ব্যক্তি, ৪০ বছরের ঊর্ধ্বে নারী-পুরুষ, কম শারীরিক পরিশ্রমকারী এবং দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা ব্যক্তিরা উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন।”
প্রাথমিক পর্যায়ে পিত্তথলির পাথর প্রায়শই নীরব থাকে, কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা দেয় না। তবে চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণের পর হঠাৎ তীব্র ব্যথা হতে পারে, সাধারণত পেটের ডান পাশে বা মাঝখানে শুরু হয়। সঙ্গে বমি, জ্বর, হজমে অসুবিধা এবং ত্বকে হলদেভাব দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এটি গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা মনে করে অবহেলা করা হয়, যার ফলে সনাক্তকরণে বিলম্ব ঘটে।
প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত হাঁটাহাঁটি, চর্বিযুক্ত খাবার কমানো, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস পিত্তথলির পাথরের ঝুঁকি অনেকাংশে কমাতে সাহায্য করে।
ডা. নয়ন জানান, চিকিৎসার প্রধান পদ্ধতি হলো ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেকটোমি—অর্থাৎ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পিত্তথলি অপসারণ—যা নিরাপদ ও সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। উপসর্গবিহীন ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে শুধু পর্যবেক্ষণই যথেষ্ট হতে পারে। হোমিওপ্যাথি বা অপ্রচলিত চিকিৎসায় যাওয়ায় জটিলতা বাড়তে পারে। উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ শল্যচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পিত্তথলির পাথর সাধারণ মনে হলেও সময়মতো চিকিৎসা না নিলে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। সচেতনতা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক।
সিএ/এমআর


