দেশজুড়ে কয়েক দিন ধরে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। শীতকাল এখন প্রায় মাঝামাঝি পর্যায়ে, সামনে আরও কয়েক সপ্তাহ ঠাণ্ডা থাকতে পারে। এই সময়ে কাঁথা ও কম্বল ছাড়া দৈনন্দিন জীবন প্রায় অচল হয়ে পড়ে। রাতে ঘুমানো কিংবা ভোরের ঠাণ্ডা সামলাতে কম্বলই ভরসা।
তবে সমস্যা হয় তখনই, যখন কম্বল নোংরা হয়ে যায়। পানি দিয়ে কম্বল ধোয়া বেশ কষ্টসাধ্য। পানিতে ডোবানোর সঙ্গে সঙ্গেই কম্বল ভারী হয়ে যায়, তুলতে বা কাচতে অনেক শক্তি লাগে। আবার শীতের দিনে ধোয়া কম্বল শুকাতে সময় লাগে কয়েক দিন। ফলে নিয়মিত পানি দিয়ে ধোয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে দিনের পর দিন নোংরা কম্বল ব্যবহার করাও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। কম্বল থেকে দুর্গন্ধ বের হয়, ত্বকে চুলকানি বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। তাই শীতের এই সময়ে কম্বল না ধুয়েও কীভাবে পরিষ্কার রাখা যায়, সেটাই অনেকের জন্য বড় প্রশ্ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাবান পানিতে কম্বল ধোয়ার সময়ও সতর্ক থাকা জরুরি। হালকা গরম পানিতে লিকুইড ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা উচিত। ধোয়ার পর ভালোভাবে পরিষ্কার পানি দিয়ে কেচে নিতে হয়। ঠিকমতো না শুকালে কম্বলের ফ্যাব্রিক নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত গরম পানি কিংবা ভুল ডিটারজেন্ট ব্যবহার করলে কম্বলের কাপড় দুর্বল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
তাই মাসে একবার পানি দিয়ে ধোয়া গেলেও, সপ্তাহে সপ্তাহে তা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে পানি ছাড়া কিছু সহজ উপায়ে কম্বল পরিষ্কার রাখা যায়।
দু-তিন সপ্তাহ পরপর কম্বল রোদে দেওয়া উপকারী। দড়িতে ঝুলিয়ে এমন জায়গায় রাখতে হবে, যেখানে পর্যাপ্ত রোদ ও বাতাস চলাচল করে। এতে কম্বলের ভেতরের আর্দ্রতা দূর হয় এবং দুর্গন্ধ অনেকটাই কেটে যায়।
কম্বলের ওপর বেকিং সোডা ছড়িয়ে দিয়েও পরিষ্কার রাখা সম্ভব। বেকিং সোডা ছিটিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এরপর কম্বল ভালোভাবে ঝেড়ে নিলে গন্ধ শোষিত হয়ে যায়। এতে ফ্যাব্রিকের কোনো ক্ষতি হয় না এবং ধোয়া ছাড়াই কম্বল ব্যবহারযোগ্য থাকে।
আরেকটি কার্যকর উপায় হলো চাদর ব্যবহার করা। সময়ের অভাবে নিয়মিত কম্বল পরিষ্কার করা সম্ভব না হলে সরাসরি কম্বল গায়ে না দিয়ে আগে একটি পাতলা চাদর ব্যবহার করা যেতে পারে। চাদরের ওপর কম্বল চাপালে কম্বল সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে আসে না। এতে ঘাম ও গন্ধ কম্বলে জমে না এবং দীর্ঘদিন পরিষ্কার থাকে। এভাবে ব্যবহার করলে মাসে একবার রোদে দিলেই কম্বল ভালো অবস্থায় রাখা সম্ভব।
সিএ/এএ


