শীতের মৌসুমে নারীদের শরীরে নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তন ঘটে। দিনের আলো কমে যাওয়া, রাত দীর্ঘ হওয়া এবং দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তনের কারণে এই সময় শরীর ও মনের ওপর আলাদা প্রভাব পড়ে। শুধু এনার্জি কমে যাওয়া বা মেজাজের পরিবর্তন নয়, শীতের প্রভাব পড়ে হরমোনের ভারসাম্য, ঋতুস্রাবচক্র এবং সার্বিক প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপরও।
শীতকালে সূর্যের আলো কম পাওয়ার ফলে শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই হরমোন ঘুম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করলেও এর প্রভাবে অনেক নারীর এনার্জি কমে যায়, মনমরা ভাব দেখা দেয় এবং মেটাবলিজম ধীর হয়ে পড়ে। এর প্রভাব সরাসরি দৈনন্দিন কর্মক্ষমতার ওপরও পড়ে।
এই সময় অনেক নারীর মাসিক চক্রে পরিবর্তন, রাগ বা খিটখিটে মেজাজ, অস্বাভাবিক খাবারের ইচ্ছা কিংবা বেশি রক্তপাতের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের পিসিওএস বা থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে শীতকালে এসব উপসর্গ আরও তীব্র হতে পারে।
শীতকালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। এই মৌসুমে সর্দি-কাশি ও ভাইরাল সংক্রমণ সহজেই হয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে শরীরে প্রদাহ বাড়ে, যা হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এর ফলে ইউরিন ইনফেকশন, পেলভিক অস্বস্তি বা পুরোনো গাইনোকোলজিক সমস্যাগুলো আবার ফিরে আসতে পারে।
খাদ্যাভ্যাসেও শীতকালে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। ঠান্ডা বাড়লেই ভারী ও বেশি কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবারের প্রতি ঝোঁক বাড়ে। কিন্তু অতিরিক্ত চিনি ও প্রসেসড খাবার পিএমএস, ফোলাভাব এবং ক্লান্তি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। শীতকালে মৌসুমি ফল, শাক-সবজি, পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভালো ফ্যাট ও হালকা মসলাযুক্ত খাবার হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
এ ছাড়া সূর্যের আলো কম পাওয়ার কারণে অনেক নারীর শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দেখা দেয়। ভিটামিন ডি-এর অভাব হরমোন, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও প্রজনন স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত হাঁটা, হালকা শরীরচর্চা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া দরকার। শীতকালে ‘ফিল গুড’ হরমোন সেরোটোনিনের নিঃসরণ কমে যেতে পারে, ফলে মন খারাপ, অবসাদ বা বিরক্তিভাব তৈরি হয়। অতিরিক্ত মানসিক চাপ ওভুলেশন ও মাসিক চক্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম, রোদে বসা, মানসিক বিশ্রাম এবং নিজের জন্য সময় বের করা শীতকালীন সুস্থতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
সিএ/এএ


