বোরখা, হিজাব ও নিকাব পরিহিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের নিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ছাত্রদল নেতা তুহিন রানার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত সংগঠন বেরোবি শিক্ষার্থী পরিষদ।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা পর্দাশীল নারীদের ‘ভূতের’ সঙ্গে তুলনা করার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
এ সময় বেরোবি ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মিন নুরিকা বলেন, নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে দাঁড়িয়ে মা-বোনদের ইজ্জত ও সম্মান রক্ষার দাবিতে রাজপথে নামতে বাধ্য হওয়া দুঃখজনক।
তিনি অভিযোগ করেন, বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তুহিন রানা পর্দাশীল নারীদের নিয়ে “নোংরা ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য” করে তাদের ভূতের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর ভাষায় এটি “স্পষ্টভাবে নারী অবমাননার শামিল।”
নুরিকা আরো বলেন, সারাদেশে জামায়াতের নারী বিভাগের কর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং পোশাক খুলে নেওয়ার হুমকির ঘটনাও উদ্বেগজনক। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই যারা হামলা ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইন ও নারী অবমাননা আইনে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মো. রাকিব মুরাদ বলেন, বোরকা ও নিকাবকে অপমান করার মাধ্যমে এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে। আমরা বেরোবি ছাত্রদল নেতাকে অনতিবিলম্বে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাই। অন্যথায় তাঁরা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এ ছাড়াও শিবির নেতা শিবলী সাদিক বলেন, পর্দা মুসলমান নারীর জন্য ফরজ বিধান। কিন্তু বেরোবি ছাত্রদলের “কুলাঙ্গার নেতা” তুহিন রানা হিজাব ও নিকাবকে ভূতের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি এর তীব্র নিন্দা জানান।
শিবলী আরও বলেন, ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি এখনো ক্ষমা চাননি। বরং তিনি তার বক্তব্যকে জাস্টিফাই করতে বিভিন্ন লেখালেখি করছেন। আমাদের ধৈর্যকে দুর্বলতা ভাবার সুযোগ নেই। দ্রুত প্রকাশ্যে এসে ক্ষমা না চাইলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
মানববন্ধনে বক্তারা সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের দ্বারা জামায়াতের নারী বিভাগের কর্মীদের ওপর হামলা, উস্কানি ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের ঘটনাগুলোরও তীব্র সমালোচনা করেন।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেরোবি শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি এম সুমন সরকারের ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করা “নির্বাচনি প্রচারে হামলা, মহাসমাবেশের ঘোষণা মহিলা জামায়াতের” শীর্ষক একটি সংবাদের পোস্টে বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তুহিন রানা লেখেন, “ওই সমস্ত মহিলাদের দেখলে ভয়ও লাগে, কেমন জানি ভূতের মতো। নারীদের দিয়ে প্রচারণা করার প্রবণতা এত কেন??” এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
বেরোবি প্রতিবেদক
সিএ/জেএইচ


