অস্কারের স্বপ্ন প্রায় সব অভিনেতা-অভিনেত্রীর মনেই থাকে। হলিউড থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে সিনেমা অঙ্গনের অনেকেই সোনালি এই ট্রফিকে ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত স্বীকৃতি হিসেবে দেখেন। তবে এই প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন হলিউড অভিনেত্রী আমান্ডা সেফ্রিড। তাঁর ভাষায়, অস্কার পাওয়া তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়।
ডেভিড ফিঞ্চার পরিচালিত ‘মান্ক’ সিনেমার জন্য ২০২১ সালে প্রথমবার অস্কারে মনোনয়ন পান আমান্ডা সেফ্রিড। এরপরও ধারাবাহিকভাবে প্রশংসিত অভিনয় করে যাচ্ছেন তিনি। গত বছর মুক্তি পাওয়া ‘দ্য টেস্টিমেন্ট অব অ্যান লি’ ও ‘দ্য হাউসমেইড’—এই দুই সিনেমাতেই প্রশংসা কুড়িয়েছে তাঁর অভিনয়। ‘অ্যান লি’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য গোল্ডেন গ্লোবস ও ক্রিটিকস চয়েস অ্যাওয়ার্ডসে মনোনয়নও পেয়েছেন তিনি। ২২ জানুয়ারি ঘোষিত হতে যাচ্ছে এবারের অস্কার মনোনয়ন তালিকা। সেখানেও তাঁর নাম থাকতে পারে—এমন গুঞ্জন রয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্কারের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, অস্কার জয়ের ব্যাপারে তিনি কতটা আশাবাদী। উত্তরে আমান্ডা সেফ্রিড বলেন, ‘যদি পাই, সেটা অবশ্যই ভালো হবে। তবে অস্কারের কোনো প্রয়োজন আমার নেই।’ তিনি পাল্টা প্রশ্ন রাখেন, ‘তোমার কি মনে আছে গত ১০ বছরে কারা কারা অস্কার জিতেছে? দর্শক সেটা মনে রাখে না। একজন শিল্পীর জীবনে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে দীর্ঘ সময় ধরে ক্যারিয়ারে টিকে থাকা। আমি অস্কার জেতা ছাড়াই এত দূর আসতে পেরেছি।’
এ বছর অস্কারে মনোনয়ন না পেলেও তাঁর কোনো আক্ষেপ থাকবে না বলেও জানান আমান্ডা সেফ্রিড। তাঁর মতে, তিনি ইতিমধ্যেই নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন। পুরস্কারের চেয়ে দর্শকদের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন।
নিজের ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে আমান্ডা সেফ্রিড বলেন, ‘আমাদের সবার জীবনেই উত্থান-পতন থাকে। দর্শকদের কাছে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা সময়ের সঙ্গে বদলায়। আমার ক্যারিয়ার এখন ভালো পর্যায়ে আছে। দ্য হাউসমেইড বক্স অফিসে ভালো করছে। কিন্তু সব সময় এমন থাকে না। কখনো মাম্মা মিয়া!-এর মতো সাফল্য আসে, আবার কখনো টেড ২ কিংবা আ মিলিয়ন ওয়েজ টু ডাই ইন দ্য ওয়েস্ট-এর মতো ছবিও আসে, যেগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী বক্স অফিসে সফল হয়নি। তবে এসব নিয়ে ভাবি না। নিজের পছন্দ আর মূল্যবোধেই অবিচল থাকি।’
সিএ/এসএ


