বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তপন সিংহ এক প্রভাবশালী পরিচালক, যিনি নীরবে কিন্তু দৃঢ়ভাবে গল্প বলার ধারা পরিবর্তন করেছেন। ২০০৯ সালের ১৫ জানুয়ারি কলকাতায় তার প্রয়াণের মধ্য দিয়ে বাংলা সিনেমার এই দিকপাল আমাদের মাঝে আর নেই। প্রায় ৪০টির মতো চলচ্চিত্র নির্মাণ করে তিনি বাংলা সিনেমার নান্দনিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে অনন্য অবদান রেখেছেন।
তপন সিংহের জন্ম ১৯২৪ সালে বীরভূমের জাজিগ্রামে। বিজ্ঞানের ছাত্র হলেও তিনি জীবন বেছে নেন ক্যামেরার পেছনে দাঁড়িয়ে। নিউ থিয়েটার্সে শব্দযন্ত্রীর কাজ থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে প্রথম সারির পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। ‘কাবুলিওয়ালা’, ‘ঝিন্দের বন্দি’, ‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা’—প্রতিটি ছবিতে ফুটে ওঠে মানুষের গল্প, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও বাস্তব জীবনের সংমিশ্রণ।
তিনি শিশুদের জন্য নির্মিত ‘সফেদ হাতি’ এবং ‘সবুজ দ্বীপের রাজা’-এর মাধ্যমে কেবল গল্পই বোননি, বরং মূল্যবোধের পাঠও উপস্থাপন করেছেন। শিক্ষার গুরুত্ব, দায়িত্ববোধ এবং সচেতন নাগরিকের ভূমিকা তার চলচ্চিত্রে বারবার প্রতিফলিত হয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেলেও তিনি ছিলেন নিভৃতচারী, প্রচারের আলো থেকে দূরে। তার কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার ছিল সাধারণ মানুষের গ্রহণযোগ্যতা।
আজও প্রশ্ন ওঠে, সত্যজিৎ, ঋত্বিক, মৃণালের পাশে তপন সিংহকে কেন যথাযথ স্থান দেওয়া হয়নি। জীবদ্দশায় অবহেলা এবং গবেষণার অভাব কি তাকে ইতিহাসে আড়াল করে রেখেছিল—এই বিষয় নতুন প্রজন্মের জন্য আলোচনার সুযোগ তৈরি করছে। তবুও তপন সিংহ ছিলেন এবং থাকবেন মানুষের পরিচালক হিসেবে।
সিএ/এসএ


