নন্দিত ও মিষ্টি হাসির চিত্রনায়িকা তামান্না হুদা ১৯৯৫ সালে কয়েক মাসের জন্য সুইডেন থেকে দেশে এসে চলচ্চিত্রের জগতে প্রবেশ করেন। তখন তার বয়স মাত্র ১৪–১৫ বছর। দেশে আসার চার দিন আগে একটি বিজ্ঞাপন এজেন্সি থেকে ফোন পান, যা পরিবারের অনুরোধে গ্রহণ করেন। ‘স্টারশিপ কনডেন্সড মিল্ক’ বিজ্ঞাপনটি প্রচারে আসার পর মুহূর্তেই তিনি প্রশংসায় ভাসতে থাকেন।
বিজ্ঞাপনের সাফল্যের কারণে সিনেমার প্রস্তাব আসতে থাকে। ১৯৯৭ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান সাইফুল আজম কাশেমের ‘ত্যাজ্যপুত্র’ সিনেমা দিয়ে। একই বছরের ডিসেম্বর মাসে শুরু হয় ‘ভণ্ড’ সিনেমার শুটিং, যা ১৯৯৮ সালের ১৫ মে মুক্তি পেয়ে বাম্পার হিট হয়। এরপর একের পর এক ছবি করেছিলেন তিনি, ৫ বছরের মধ্যে মোট ১৫টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ২০১৩ সালে ১টি সিনেমা করে মোট ১৬টি সিনেমা সম্পূর্ণ হয়। উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘ভণ্ড’, ‘হৃদয়ে লেখা নাম’, ‘তুমি আমার ভালোবাসা’, ‘শত্রু তুমি বন্ধু তুমি’, ‘কঠিন শাস্তি’, ‘সন্ত্রাসী বন্ধু’, ‘আমার প্রতিজ্ঞা’, ‘মুখোশধারী’, ‘পাগল তোর জন্য রে’ ইত্যাদি।
সুইডেনে ফিরে গিয়ে তামান্না ডেন্টিস্ট হিসেবে কাজ করছেন এবং সুইডেনের নৃত্যশিল্পী অ্যাসোসিয়েশনের ড্যান্স লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, স্বামী-সংসার-সন্তান নিয়ে ভালো আছি। আমি এখানে একটি নাচের প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছি। পরিবারকে সময় দিচ্ছি, এভাবেই কেটে যাচ্ছে।’
বাংলাদেশে অভিনয় করার বিষয়েও তিনি উল্লেখ করেন, ‘শুরুর দিকে কিছু সুযোগ পেয়েছিলাম কিন্তু আগ্রহ পাইনি। কারণ তারা যেভাবে কাজ করে, সে ধরনের কাজ আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি আমার দেশে যে সুবর্ণ সময়টা পার করেছি, তার জন্য অনেক মানুষের ভালোবাসা পাই, সেটাতেই তৃপ্ত।’
শাকিব খানের সঙ্গে কাজ করা অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তামান্না বলেন, ‘আমার যে বছর সিনেমা রিলিজ হয়, ওই বছরই পরের বছর শাকিবের প্রথম সিনেমা রিলিজ হয়। ওর সঙ্গে দুই-তিনটা ছবি করেছিলাম। শুটিংয়ে কাজের বাইরে আলাদা কথা বলতাম না। শাকিবও চেষ্টা করত না, কারণ জানত চেষ্টা করলেও লাভ হবে না। এরপর তো আমি চলে এলাম, আর শাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। তবে সম্প্রতি ওর সিনেমা দেখে বুঝেছি, ও নিজেকে অনেক দূর এগিয়েছে।’
সোশ্যাল মিডিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন সব কিছু খুব সহজলভ্য। আগের সময় তারকারা সবার নাগালের বাইরে থাকত। এখনকার নেতিবাচক মন্তব্যগুলো দেখলে আমি অবাক হই। আমি হলে এসব কখনোই নিতে পারতাম না।’
সিএ/এএ


