২০১৫ সালের নভেম্বরে ‘নেদারল্যান্ডস ইনিশিয়েটিভ ফর ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট ইন হায়ার এডুকেশন’ (NICHE) প্রকল্পের অধীনে আন্তর্জাতিক সংস্থা নেদারল্যান্ডস ইউনিভার্সিটিজ ফাউন্ডেশন ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (নুফিক) এর অর্থায়নে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) একটি ‘মাল্টিপারপাস টিল্টিং ফ্লুম’ ক্রয় করে। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার্কশপে স্থাপন করা হয়।
আসাদুল্লাহ গালিব
৩ মিনিটে পড়ুন
২০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১.৫ মিটার প্রস্থ বিশিষ্ট এই যন্ত্রটির জন্য প্রয়োজন ছিল অন্তত ৩০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৫ মিটার প্রস্থের একটি কক্ষ। কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, সংকীর্ণ ওয়ার্কশপের এক কোণে এটি স্থাপন করা হয়েছে। আশপাশে ছড়িয়ে রয়েছে কাঠের আসবাব ও অন্যান্য অবকাঠামো। ফলে যন্ত্রটির কাছে পৌঁছানোর পর্যাপ্ত স্থান নেই, এমনকি হাঁটার জন্যও কোনো বেইজ তৈরি করা হয়নি।
দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ার কারণে ধুলো-ময়লার স্তর এবং মাকড়সার জাল দিয়ে ঢাকা এই যন্ত্রটি বর্তমানে নষ্ট হওয়ার পথে। যন্ত্রটি চালানোর জন্য ৫০ অশ্বক্ষমতার দুটি পাম্প রয়েছে, যার একটি ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। অপরটি সচল থাকলেও ফ্লো-মিটার কাজ করছে না। পাশের উড শপের কারণে কাঠের গুঁড়ো পড়ে যন্ত্রের যান্ত্রিক ক্ষতি হচ্ছে।
একজন সহকারী অধ্যাপক জানান, যন্ত্রটি সর্বশেষ তিন বছর আগে ব্যবহার করা হয়েছিল। পলি বা তলানি পরিবহনের পরীক্ষার জন্য পলি সংগ্রাহক না থাকায় পাম্প ব্লক হয়ে যায়, ফলে ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ। রিজার্ভার ট্যাংকেও লিকেজ রয়েছে। তিনি বলেন, “যন্ত্রটি সচল করতে হলে সর্বোত্তম স্থাপন খোলা স্থানে করা দরকার।”
পুরকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. রিয়াজ আক্তার মল্লিক বলেন, যন্ত্রটি যে উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল তা সফল হয়নি। উচ্চতর গবেষণা হচ্ছে না কারণ শিক্ষার্থী ও গবেষক নেই। তবে কেউ উদ্যোগ নিলে বিশ্ববিদ্যালয় সমর্থন দেবে। যন্ত্রটি ওয়ার্কশপে বিশাল জায়গা দখল করছে, ফলে শিক্ষার্থীদের ল্যাব ক্লাস ও চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।
ওয়ার্কশপের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আহসানউল্লাহ জানান, যন্ত্রটির কারণে ফাউন্ড্রি ও ওয়েল্ডিং শপের স্থান সংকুচিত হয়েছে। এটি ব্যবহার না হওয়ায় ওয়ার্কশপের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি সরানো সম্ভব হয়, শিক্ষার্থীদের এবং ওয়ার্কশপের জন্য সুবিধা হবে।
উল্লেখ্য, ফ্লুম মূলত পানি বা তরল পদার্থের প্রবাহ পরিমাপ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত একটি কৃত্রিম নালা। চুয়েটের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের ইরিগেশন ল্যাবে ছোট ফ্লুম রয়েছে, যা স্নাতক পর্যায়ের পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়। বড় ফ্লুমের ব্যবহার উচ্চতর গবেষণার জন্য প্রয়োজন হলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি অকেজো হয়ে পরছে।
সিএ/এসএ


