সিটি ব্যাংক জাতিসংঘের প্রিন্সিপালস ফর রেসপনসিবল ব্যাংকিংয়ে স্বাক্ষর করে ইউনাইটেড ন্যাশনস এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম ফাইন্যান্স ইনিশিয়েটিভের সদস্যপদ অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকটি বৈশ্বিক টেকসই অর্থায়ন উদ্যোগের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলো।
পিআরবিতে যোগদান প্রসঙ্গে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘প্রিন্সিপালস ফর রেসপনসিবল ব্যাংকিংয়ে যোগদান আমাদের টেকসই ব্যাংকিং যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তা, জলবায়ু অর্থায়ন জোরদার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আমাদের ভূমিকা বৈশ্বিক পরিসরে তুলে ধরতে পারব। একই সঙ্গে এটি আমাদের জন্য বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ব্যাংকের অভিজ্ঞতা থেকে উদীয়মান টেকসই উন্নয়ন-সম্পর্কিত বিষয়গুলো সম্পর্কে জানার সুযোগ সৃষ্টি করবে।’
জাতিসংঘের এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম ফাইন্যান্স ইনিশিয়েটিভের উদ্যোগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকের সহযোগিতায় প্রণীত প্রিন্সিপালস ফর রেসপনসিবল ব্যাংকিং ব্যাংকগুলোর জন্য একটি বৈশ্বিক কাঠামো হিসেবে কাজ করে। এই কাঠামোর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো তাদের ব্যবসায়িক কৌশল, পোর্টফোলিও এবং কার্যক্রমকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্যারিস চুক্তির উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার সুযোগ পায়।
১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউএনইপি এফআই বিশ্বব্যাপী ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের একটি বৃহৎ নেটওয়ার্ককে একত্রিত করেছে। এই উদ্যোগ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জাতিসংঘের সমন্বয় ঘটিয়ে টেকসই অর্থায়ন সংক্রান্ত বৈশ্বিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে। জেনেভাভিত্তিক এর সেক্রেটারিয়েট বর্তমানে বিশ্বের ৫৫০টিরও বেশি ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে।
পিআরবির স্বাক্ষরকারী হিসেবে সিটি ব্যাংক এখন একটি বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের অংশ হয়ে উঠেছে, যেখানে সদস্য ব্যাংকগুলো সম্মিলিতভাবে আরও টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সহনশীল আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে।
এই অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে সিটি ব্যাংক তাদের ব্যবসায়িক কৌশল, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় দায়িত্বশীল ব্যাংকিং নীতিমালা আরও গভীরভাবে অন্তর্ভুক্ত করবে। পাশাপাশি ব্যাংকটি তাদের কার্যক্রমের পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন ও প্রকাশ করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ করবে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও জোরদার করার উদ্যোগও গ্রহণ করবে প্রতিষ্ঠানটি।
সিএ/এসএ


