হাওরাঞ্চলের বাস্তবতায় হাঁস পালন নতুন বিষয় নয়। তবে প্রযুক্তির সংমিশ্রণে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে।
সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনায় জলাশয় ছাড়াই বেইজিং বা পিকিং জাতের হাঁস পালনে খামারিরা দ্রুত লাভ করছেন। ডিমের খোসা থেকে তৈরি পাউডার ব্যবহার করা হচ্ছে জৈব সার এবং প্রাণী খাদ্য হিসেবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের খামারি ও উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা। এতে দারিদ্র্য কমছে এবং কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে।
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার আদর্শনগর গ্রামে পালন করা হচ্ছে এমন এক ধরনের হাঁস, যার জন্য জলাশয় প্রয়োজন নেই। একটি মাচা থাকলেই এই বিদেশি জাতের হাঁস পালনের সুযোগ রয়েছে। সাদা রঙের বেইজিং বা পিকিং জাতের হাঁসগুলো দিনে শুধু দুইবার খাবার পেলে বৃদ্ধি পায়। দুই থেকে আড়াই মাসে এক হাঁসের ওজন ২.৫ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত হয়।
আদর্শনগর গ্রামের বাসিন্দা শান্তনা রানী দাস স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি অনুসরণ করে পারিবারিক খামার গড়ে তুলেছেন। তিনি বলেন, পাতি হাঁসগুলো অসুখে মারা যায়, কিন্তু পিকিং জাতের হাঁস পানিতে বা বাইরে না যাওয়ায় রোগ কমে। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা ভ্যাকসিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ায় খামারিরা আরও আগ্রহী।
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার গাছতলা বাজারের মোফাজ্জল হোসেন ডিমের খোসা থেকে পাউডার তৈরি করে জৈব সার, হাঁস-মুরগির খাদ্য এবং গাছের প্রাকৃতিক সার হিসেবে ব্যবহার করছেন। তিনি বলেন, প্রায় এক বছর ধরে ডিমের খোসার ব্যবসা করছেন। খাদ্যের সঙ্গে ডিমের খোসার গুড়া মিশিয়ে হাঁসকে খাওয়ানো হচ্ছে।
প্রান্তিক খামারি ও উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন। মাঠ পর্যায়ে এটি বাস্তবায়নে কাজ করছে দুঃস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থা। নেত্রকোনা জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপপরিচালক ডা. মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ভৌগোলিকভাবে নেত্রকোনা হাঁস পালনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। পিকেএসএফের আর্থিক সহায়তায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ৯ হাজার খামারিকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বলেন, ‘প্রাথমিক পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করাই আমাদের মূল কৌশল। ছোট কার্যক্রমকে বড় আকারে সম্প্রসারণ করতে হবে। যেখানে তুলনামূলক সুবিধা আছে, সেই কার্যক্রমগুলোকে ভ্যালু চেইনে যুক্ত করে সমন্বিত সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব।’ কর্মকর্তারা বলছেন, এই উদ্যোগ শুধু কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন নয়, প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে এবং দারিদ্র্য কমাতে সহায়তা করছে।
সিএ/এসএ


