ঢাকা–৯ সংসদীয় আসনে ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া চিকিৎসক তাসনিম জারা বলেছেন, তিনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতির একটি নতুন ধারা গড়ে তুলতে চান। গত ৩১ জানুয়ারি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেন, যা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে তাসনিম জারা জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানোর পেছনে মূল কারণ ছিল দলটির নির্বাচনী সমঝোতা ও পুরোনো রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে যুক্ত হওয়া। তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান পেশাজীবীদের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিল। তাঁর প্রত্যাশা ছিল, এনসিপি একটি মধ্যপন্থী ও গণমুখী রাজনীতির চর্চা করবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় তিনি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
নিজের সাবেক সহকর্মীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে কোনো অস্বস্তি নেই উল্লেখ করে তাসনিম জারা বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো বহুমত ও বিকল্পের উপস্থিতি। তাঁর মতে, নির্বাচন কোনো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জায়গা নয়; বরং এটি আদর্শ, পরিকল্পনা ও যোগ্যতা তুলে ধরার ক্ষেত্র।
একজন নারী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, নারীরা খুব সহজেই তাঁর কাছে এসে নিজেদের সমস্যার কথা বলছেন, যা তাঁর জন্য অনুপ্রেরণার। তবে একই সঙ্গে তিনি সাইবার বুলিং ও অপপ্রচারের বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, নারীদের রাজনীতিতে নিরুৎসাহিত করতেই এসব আক্রমণ চালানো হয়, কিন্তু তাতে তাঁরা থেমে যাবেন না।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তাসনিম জারা বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে মানুষের কাছে প্রতীক পরিচিত করা বড় বাধা। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে মাইকিং, শোডাউন কিংবা ব্যানারনির্ভর প্রচার এড়িয়ে সরাসরি মানুষের কাছে গিয়ে কথা বলছেন। এতে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
স্থানীয় সমস্যা সমাধানে সংসদ সদস্যের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা কিংবা তিতাসের মতো সেবা সংস্থাগুলোকে জবাবদিহির মধ্যে আনার ক্ষমতা সংসদ সদস্যের রয়েছে। নির্বাচিত হলে তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন।
চিকিৎসক হিসেবে স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে তাসনিম জারা বলেন, ঢাকা–৯ আসনের বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য শুধু মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল যথেষ্ট নয়। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘নো সার্ভিস, নো বিল’ নীতি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদে গেলে এ বিষয়ে খসড়া আইন প্রস্তাব করবেন। গ্যাস বা অন্যান্য সেবা দিতে ব্যর্থ হলে জনগণ যেন বিল দিতে বাধ্য না হয়, সেটিই তাঁর লক্ষ্য।
সিএ/এমই


