শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তামাকমুক্ত ঘোষণা, তামাকবিরোধী সাইনবোর্ড প্রদর্শন এবং তামাক শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা নিষিদ্ধ সংক্রান্ত যৌথ ঘোষণা বাস্তবায়নে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার, বিক্রি ও প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে বলা হয়েছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) এ বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করা হয়। আদেশে বলা হয়, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকার বেশ কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তামাক নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাঠামো কনভেনশনের (এফসিটিসি) সুরক্ষাবিধি প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং অফিস, গুদামঘর ও বাজারসহ সব স্থানে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ক্যান্টিন বা সরবরাহকারীর খাবারে স্বল্প লবণ, চিনি ও ট্রান্স-ফ্যাটমুক্ত স্বাস্থ্যকর খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি সভা ও অনুষ্ঠানে তাজা ফল, বাদাম ও স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস পরিবেশন, কর্মীদের জন্য প্রতি ঘণ্টায় ডেস্কভিত্তিক স্ট্রেচিং ব্যায়াম চালু এবং সরকারি ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক আয়োজনে মিনি ম্যারাথনসহ স্বাস্থ্যবান্ধব কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে।
এছাড়া সব সরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে সিঁড়ি ব্যবহার, হাঁটার অভ্যাস, সাইক্লিং এবং একটানা দীর্ঘ সময় বসে না থাকার মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর জীবনাচার গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও বয়স্কবান্ধব অবকাঠামো যেমন র্যাম্প ও নিরাপদ সিঁড়ি নিশ্চিত করার বিষয়টিও নির্দেশনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আলাদা করে বলা হয়েছে, সব প্রতিষ্ঠানে হেলথ প্রোমোটিং স্কুল (এইচপিএস) নীতি কাঠামো বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার শারীরিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে এবং খেলার মাঠ না থাকলে ইনডোর কার্যক্রম চালু করতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুষ্টিসমৃদ্ধ, সুষম ও কম চিনি, লবণ ও ট্রান্স-ফ্যাটমুক্ত খাবার সরবরাহের পাশাপাশি আশপাশে অস্বাস্থ্যকর খাদ্য ও চিনিযুক্ত পানীয়ের বিক্রি ও বিপণন সীমিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসম্মত বিকল্পসহ হেলদি ক্যান্টিন স্থাপন এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্য ও পানীয় শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা নিষিদ্ধ করার কথাও বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় শিক্ষাক্রমে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, পুষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্য ও জরুরি সেবাবিষয়ক প্রশিক্ষণ আয়োজনের নির্দেশ রয়েছে।
এ ছাড়াও শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশুদের বাধ্যতামূলকভাবে সাঁতার শেখানোর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিএ/এএ


