বরিশাল বিভাগের সব জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুরা ভর্তি হচ্ছে। শয্যা–সংকটের কারণে একাধিক শিশুকে একই শয্যায় রাখা হচ্ছে বা মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত বিভাগে হাম আক্রান্ত হয়ে ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে বরগুনায়।
হামের চিকিৎসা প্রটোকল অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের নমুনা (রক্ত, থ্রোট সোয়াব) সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে ঢাকায় দেশের একমাত্র হাম-রুবেলা ল্যাবে পাঠানো হয়। ল্যাব পরিচালনা করে ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ (আইপিএইচ), আর এতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
টিকা না পাওয়া শিশুরাই বেশি আক্রান্ত
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী, হাম প্রতিরোধে শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম ও ১৫ মাসে দ্বিতীয় টিকা দেওয়া হয়। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের প্রায় ৭০ শতাংশ বয়স ৬–১১ মাসের মধ্যে। বিশেষ করে ৭ মাস বয়সী শিশুদের সংক্রমণ বেশি। শিশু বিভাগের প্রধান বিকাশ চন্দ্র নাগ বলেন, সাধারণত ৯ মাস পর থেকে শিশুদের টিকা দেওয়া হয়, অথচ এখন ছোট বয়সের শিশুরাও বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুল মোনায়েম সাদ বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অক্সিজেন সরবরাহ আছে। তবে পরীক্ষার সময় বেশি লাগায় এখন লক্ষণ দেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ৩৭ শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। মার্চ মাসে ১১১ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে।
আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা–সংকটের কারণে রোগীদের একটি শয্যায় দুই থেকে তিনজন রাখা হচ্ছে, কোথাও মেঝেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামের রোগীর সঙ্গে অন্য রোগী রাখার কারণে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বরিশাল বিভাগের পরিস্থিতি
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০৫ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, ১৬০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। শনাক্ত রোগীর মধ্যে ৫১ জনের হাম এবং তিনজনের রুবেলা ধরা পড়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৮ শিশুর।
বরগুনায় পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক
বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে বরগুনায় বেশি হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। জ্বর ও শরীরে ফুসকুড়ি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বেশি। বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল ২৫০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করেছে। নমুনা পরীক্ষায় বরগুনায় ২২ জনের শরীরে হাম ধরা পড়েছে। মঙ্গলবার আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১৮ জন শিশু ভর্তি ছিলেন।
ফুলঝুরি ইউনিয়নের সাহেবের হাওলা গ্রামের ৮ মাসের শিশু জুবায়ের হামের উপসর্গ নিয়ে সোমবার ভর্তি হন। তার বাবা মো. নাঈম জানান, তিন দিন ধরে জ্বর ও শরীর লাল হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালে এনেছেন। শিশু বিশেষজ্ঞ মেহেদী পারভেজ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বর নিয়ে আসা শিশুদের মধ্যে অনেকের শরীরে হামের লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে। আক্রান্তদের আলাদা রাখা হচ্ছে।
সিএ/এমই


