কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়া এক পর্যটকের মরদেহ তিন ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত পর্যটকের নাম মেহেদী হাসান আবির (১৮)। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে সৈকতের সিগাল পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
লাইফগার্ড কর্মীরা জানান, উদ্ধার করার পর মুমূর্ষু অবস্থায় আবিরকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আবির চট্টগ্রামের আজিজনগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজারে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা বিক্রির দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশ ও লাইফগার্ড সূত্রে জানা গেছে, আবির তাঁর তিন বন্ধু মো. আরিফুল ইসলাম, মো. তানজিন ও মারুফুল হাসান রিপনের সঙ্গে বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে ঘুরতে আসেন। শহরের কলাতলী এলাকার একটি হোটেলে ওঠার পর দুপুরের দিকে তাঁরা সৈকতে গোসল করতে যান।
বেলা দুইটার দিকে সুগন্ধা সৈকতের কিছুটা উত্তরে সিগাল পয়েন্ট এলাকায় টিউবে ভেসে গোসল করছিলেন তাঁরা। এ সময় হঠাৎ বড় একটি ঢেউয়ের ধাক্কায় মেহেদী হাসান পানিতে ছিটকে পড়ে নিখোঁজ হন। সঙ্গে সঙ্গে লাইফগার্ড সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।
দীর্ঘ তিন ঘণ্টা অনুসন্ধানের পর বিকেল পাঁচটার দিকে সৈকতের পানির তলদেশ থেকে মেহেদী হাসানকে উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সৈকতে উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত বেসরকারি সি–সেফ লাইফগার্ড প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার সিফাত সাইফুল্লাহ বলেন, সুগন্ধা ও সিগাল সৈকতের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় আজ প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার পর্যটকের সমাগম হয়েছে। চার তরুণ টিউবে ভেসে গোসল করছিলেন। এ সময় বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় মেহেদী পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন।
তিনি আরও বলেন, উদ্ধার করার সময় মেহেদী অচেতন অবস্থায় ছিলেন। লোনাপানি খাওয়ায় তাঁর পেট ফুলে গিয়েছিল। সম্ভবত তাঁর সাঁতার জানা ছিল না। সাঁতার না জানা ব্যক্তিদের টিউবে ভেসে গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার জন্য বারবার সতর্ক করা হলেও অনেকেই তা মানছেন না।
সি–সেফ লাইফগার্ডের ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ আহমদ বলেন, ঈদের দ্বিতীয় দিন ২২ মার্চ থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক লাখ পর্যটক কক্সবাজার সৈকতে আসছেন। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যটক সমুদ্রে নেমে গোসল করেন। জোয়ার–ভাটার সময়সূচি না জেনে এবং প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে অনেকেই সমুদ্রে নামায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
তিনি জানান, শহরের কলাতলী থেকে সুগন্ধা ও সিগাল হয়ে উত্তর দিকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তায় সি–সেফ লাইফগার্ডের ২৭ জন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। তবে কলাতলী থেকে দক্ষিণ দিকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ১১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতে নিয়মিত উদ্ধার তৎপরতা চালানোর মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।
সিএ/এমই


