রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন মাদ্রাসার এক শিশুশিক্ষার্থীর (১০) শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক গাইনি পরীক্ষায় শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, শিশুটির অবস্থা আগের তুলনায় খারাপ হয়েছে এবং তাকে আইসিইউতে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় মামলা প্রত্যাহার করে আপস করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। শিশুটির বাবার দাবি, গ্রেপ্তার হওয়ার আগে মাদ্রাসার পরিচালক ফোন করে বিষয়টি না বাড়ানোর জন্য চাপ দেন। পরে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে পরিচালকের পক্ষ থেকে চার ব্যক্তি হাসপাতালে এসে চিকিৎসা অন্যত্র নেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং খরচ বহনের আশ্বাস দেন।
শিশুটির বাবা জানান, তিনি কাউকে নিজের নম্বর দেননি, তবুও এক নার্সের মাধ্যমে ওই ব্যক্তিরা তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা মামলা না চালিয়ে বাইরে চিকিৎসা করানোর কথা বলেন। তবে তিনি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য মেয়েকে ঢাকায় বা বিদেশে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
গত সোমবার সকালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার একটি মাদ্রাসা থেকে সংকটাপন্ন অবস্থায় শিশুটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছু সময় পরপর আতঙ্কে কেঁপে ওঠায় এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেদিনই তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা ভেড়ামারা থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। ভেড়ামারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাকিবুল ইসলাম জানান, মামলায় মাদ্রাসার পরিচালক, তাঁর স্ত্রী এবং এক নারী শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় সাত-আট মাস আগে শিশুটিকে ভেড়ামারার ওই কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়েছিল। মাদ্রাসার নিচতলায় পরিচালক পরিবার নিয়ে থাকতেন এবং দোতলায় শিক্ষার্থীদের রাখা হতো। খাওয়াদাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের নিচে আনা হতো।
শিশুটির মা জানান, ভর্তি করানোর কিছুদিন পরই তিনি সেখানে শিশু নির্যাতনের কথা শুনেছিলেন এবং মেয়েকে তুলে নিতে চেয়েছিলেন। তবে পরিচালকের স্ত্রীর আশ্বাসে তিনি মেয়েকে সেখানে রেখেছিলেন। গত শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তখন মেয়েটি ঈদের ছুটিতে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) মাদ্রাসায় গিয়ে মেয়েকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান মা। তাঁর পেট ও একটি পা ফুলে ছিল। তবে এ বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। মেয়েকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বললে পরিচালকের স্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরবর্তীতে শিশুটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং নিজে থেকে কিছু বলতে পারছে না। গাইনি পরীক্ষায় তার শরীরে আঘাতের আলামত পাওয়া গেছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
গাইনি বিভাগের প্রাথমিক প্রতিবেদনে শিশুটির সতীচ্ছদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, এটি যৌন নির্যাতনের ফল হতে পারে, তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য বিস্তারিত পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।
সিএ/এমই


