রাজশাহীতে মাদ্রাসার এক ১০ বছরের শিশুশিক্ষার্থীকে সংকটাপন্ন অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক গাইনি পরীক্ষায় শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। শুক্রবার (১৬ মার্চ) এই ঘটনা জানানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদ্রাসার পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামাড়া থানায় শিশুটির মা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ভেড়ামারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাকিবুল ইসলাম জানান, শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
শিশুটির মা জানান, তার মেয়েকে সাত-আট মাস আগে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার একটি কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলেন। মাদ্রাসার নিচতলায় পরিচালক ও তার পরিবার থাকেন, আর দোতলায় শিক্ষার্থীদের রাখা হয়। খাওয়াদাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের নিচে আনা হয়। মায়ের ভাষ্য, ভর্তি হওয়ার পরই তিনি শুনেছিলেন মাদ্রাসায় শিশুদের নির্যাতন করা হয়। কিছুদিন আগে মেয়েকে ভর্তি বাতিল করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু পরিচালকের স্ত্রী আশ্বস্ত করেছিলেন, তাই মেয়েকে মাদ্রাসায় রেখেছিলেন।
শিশুটির অবস্থা রবিবার (১৫ মার্চ) মাদ্রাসা থেকে নেওয়া হলে দেখা যায়, পেট ফুলে গেছে, বাঁ পায়ে আঘাতের চিহ্ন আছে। মাদ্রাসার পরিচালক এবং তার স্ত্রী প্রথমে মায়ের সাথে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে শিশুটিকে বাড়ি পাঠানোর চেষ্টা করেন। পরে মা শিশুটিকে কুষ্টিয়ার একটি রোগনির্ণয় কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে আলট্রাসনোগ্রাম করান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সোমবার সকালেই শিশুটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে শিশুটির সঙ্গে তার মা রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং অক্সিজেন দিতে হয়। প্রাথমিক পরীক্ষায় যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে, তবে নিশ্চিত তথ্যের জন্য ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। গাইনি পরীক্ষার প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, শিশুটির সতীচ্ছদ পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মাদ্রাসার পরিচালক দাবি করেছেন, তিনি ছয় দিন ধরে ইতেকাফে ছিলেন এবং শিশুটির পায়ে ফোড়া হয়েছে, তাই অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। তিনি বলেছেন, ‘শিশুটিকে কোনো প্রকার নির্যাতন করা হয়নি’।
ভেড়ামারা থানার পুলিশ ওই পরিচালকের বাড়ি থেকে তাকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে এখনো তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়নি।
সিএ/এমই


