মাদারীপুরে আলমগীর হাওলাদার হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে রোববার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে সদর থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সদর মডেল থানার সামনে ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচিতে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে কয়েক শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
বিকেল বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয় হয়ে সদর মডেল থানার সামনে এসে শেষ হয়। বিক্ষোভকারীরা আলমগীর হত্যার মূল আসামিদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
১০ মার্চ সকালে আলমগীর হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় তাঁর ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং হামলাকারীরা তাঁর ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে। নিহত আলমগীর হাওলাদার মাদারীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন মাদারীপুর এলাকার মৃত হাফেজ হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ছিলেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শাকিল মুনশি হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরও মূল আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক লাভলু হাওলাদার ও জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব কামরুল হাওলাদারের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আলমগীরকে হত্যা করেছে। তারা বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
মামলার বাদী ও নিহতের স্ত্রী রেখা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামীকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাভলু ও কামরুল হাওলাদারসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। তাঁরা আসামি। মামলা করেছি, কিন্তু পুলিশ এখনও তাদের ধরতে পারেনি।’
থানার সামনে বিক্ষোভ ও অবরোধ চলাকালীন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, আলমগীর হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। মামলায় অন্তর্ভুক্ত কোনো আসামিকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
সিএ/এমই


