মানিকগঞ্জ জেলা শহরে একটি বিউটি পারলারের আড়ালে এক তরুণীকে জোরপূর্বক যৌন কাজে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই তরুণীকে উদ্ধার করেছে এবং এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করার পর মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে ওই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। পরে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করা হলে আটক তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পারলারের মালিক রত্না ইয়াছমিন (৪০), তাঁর ছেলে মো. তুষার রহমান (২৪) এবং তাজনীন আক্তার ওরফে চাঁদনী (২৩) নামের এক তরুণী। এ ছাড়া মামলায় আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া তরুণীকে চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জ জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ওই বিউটি পারলারের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে যৌন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন রত্না ইয়াছমিনসহ কয়েকজন। ভুক্তভোগী তরুণী সেখানে চাকরি করতেন। অভিযোগ রয়েছে, পারলারের মালিক ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে জোরপূর্বক যৌন কাজে বাধ্য করতেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার ভুক্তভোগী তরুণীর ছোট বোন তাঁর বাসায় বেড়াতে এলে বিষয়টি জানতে পারেন অভিযুক্তরা। পরে তাঁকেও যৌন কাজে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু ভুক্তভোগী তরুণী এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া শুরু হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, শনিবার দিবাগত রাত একটার দিকে অভিযুক্তরা তাঁর বাসায় গিয়ে তাঁকে মারধর করে জোরপূর্বক পারলারে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে রড দিয়ে মারধর করা হয় এবং হাত বেঁধে শিকলে আটকে রাখা হয়। একপর্যায়ে কাঁচি দিয়ে তাঁর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং মুখে কালি মেখে দেওয়া হয়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকরাম হোসেন বলেন, ‘ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে পাঁচজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী তরুণী। ইতিমধ্যে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
সিএ/এমই


