ঢাকার সাভারে একটি ভাড়া বাসা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় অবস্থিত বাসা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শারমীন জাহান (২৩) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তেতৈয় গ্রামে। তিনি শাহ জাহান মোল্লার মেয়ে। ঘটনার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শারমীনের স্বামী ফাহিম আল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তিনি ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী।
পুলিশ জানায়, ফাহিম আল হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী রোববার সকালে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে যান। পরে বেলা দুইটার দিকে বাসায় ফিরে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ দেখতে পান। ভেতরে প্রবেশ করে তিনি শারমীনকে রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় দেখতে পান। এরপর আশপাশের লোকজনের সহায়তায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ভাড়া বাসার মালিক আব্দুল্লাহ সোহরাওয়ার্দী বলেন, ‘সকালে আমি অফিসে গিয়েছিলাম। বেলা তিনটার দিকে বাসায় নিচে এসে শুনতে পাই ছেলেটি (ফাহিম আল হাসান) বলতেছে “চোখ খোলো”, “চোখ খোলো”। এরপর আমি ঘরের ভেতরে যাই। তখন সে বলে, “আঙ্কেল, শারমীনকে হাসপাতালে নিলে ভালো হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখান থেকে তাঁকে এনাম মেডিকেলে নেওয়া হয়। তবে বাসা থেকে মেয়েটার দেহ নিথর ছিল। কোনো জ্ঞান ছিল না।’
তিনি আরও জানান, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নেন শারমীন জাহান ও তাঁর স্বামী ফাহিম আল হাসান।
এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এনামুল হক মিয়া বলেন, বিকেল ৪টা ২২ মিনিটের দিকে শারমীন জাহানকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তারা মরদেহ নিজেদের হেফাজতে নেয়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) আবদুর রশিদ জিতু বলেন, ‘ছবিতে আমরা দেখেছি শারমীনের মাথা থেঁতলানো; গায়ে অসংখ্য আঁচড়ের দাগ। তাঁর স্বামী ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে এ ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কে বা কারা জড়িত, সেটি বের করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যু কখনোই কাম্য নয়। এ ঘটনায় আমরা বাকরুদ্ধ, স্তম্ভিত। এ ঘটনার জন্য যিনি বা যারা দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে বলা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা পুলিশকে সহায়তা করছেন।’
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ফাহিম আল হাসান দাবি করছেন তিনি সকাল ১০টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে যান। পরে দুপুরে ফিরে এসে স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। তাঁর বক্তব্য যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দ্রুতই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি
সিএ/এমই


