মৌলভীবাজার শহরের মনু নদের পাড়ের শান্তিবাগ ওয়াকওয়ে এলাকায় এখন অশোক ফুলের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে প্রকৃতি। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে আছে কমলা রঙের অশোকমঞ্জরি। ডালভরা ফুলের সৌন্দর্য দূর থেকেই পথচারীদের আকৃষ্ট করছে। বসন্তের এই সময়ে একাধিক অশোকগাছ যেন হৃদয় উজাড় করে ফুটিয়েছে রঙিন ফুল।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে মনু নদের তীর ঘুরে দেখা যায়, অশোকগাছের ডালে ডালে থোকা থোকা কমলা রঙের ফুল ফুটে আছে। পাতার আড়ালে খোঁপার মতো সাজানো ফুলগুলো গাছের সবুজ পাতার সঙ্গে মিশে তৈরি করেছে অপূর্ব দৃশ্য। কোথাও কোথাও বাসি হয়ে যাওয়া ফুলের রং গাঢ় লালে রূপ নিয়েছে। কিছু ফুলের ওপর ভনভন করছে কালো ভ্রমর, আবার কোথাও পিঁপড়ার ছোটাছুটি দেখা যায়।
গাছের নিচে ঘাসের জমিনে ঝরে পড়েছে অনেক অশোকমঞ্জরি। সবুজ ঘাসের বুকে ছড়িয়ে থাকা কমলা ফুলগুলো যেন সুই-সুতার সূক্ষ্ম নকশার মতো দেখাচ্ছে। দূর থেকে মনে হয় সবুজের বুকে কেউ কাঁথা সেলাইয়ের মতো করে ফুলগুলো গেঁথে দিয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) ভোররাত থেকে মৌলভীবাজার শহরসহ আশপাশের এলাকায় বৃষ্টি হয়। মাঝে মাঝে মেঘের গর্জন ও ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে ঝরতে থাকে ফাল্গুনের প্রথম বৃষ্টি। শীতের পর প্রকৃতিতে এই প্রথম বৃষ্টির স্পর্শে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ। বৃষ্টিতে ধুয়ে-মুছে গাছের পাতা ঝকঝকে হয়ে ওঠে। শনিবার সকালেও কয়েক দফা হালকা বৃষ্টি হয়েছে।
বসন্তের এমন স্নিগ্ধ আবহে অশোকগাছের ঝুলন্ত তামাটে কচি পাতাও নজর কাড়ছে। গাছের ডগায় ঝুলে থাকা নতুন পাতাগুলো বাতাসে দুলে প্রকৃতির সৌন্দর্যকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মা তাঁর ‘শ্যামলী নিসর্গ’ বইয়ে অশোকের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন, অশোক শব্দের অর্থ দুঃখহারী। এই গাছের নামের পেছনে বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। অশোকগাছে রয়েছে ভেষজ গুণ, শীতল ছায়া, মধুর গন্ধ এবং প্রস্ফুটনের ঐশ্বর্য। দেশি এই বৃক্ষের খ্যাতি বহু প্রাচীন এবং এর ফুলকে প্রেমের প্রতীক হিসেবেও ধরা হয়।
অশোক গাছ মূলত ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থানীয় বৃক্ষ। মাঝারি আকারের এই গাছের কাণ্ড মসৃণ ও ধূসর রঙের। পাতাগুলো লম্বা ও বর্শাফলাকৃতির। কচি পাতা নিচের দিকে ঝুলে থাকে এবং তামাটে রঙ ধারণ করে। নতুন ফুল ফুটলে তা কমলা রঙের হয়, পরে ধীরে ধীরে লাল হয়ে যায়।
পুষ্পমঞ্জরি পিঁপড়ার জন্য প্রিয় আবাসস্থল হিসেবেও পরিচিত। প্রায় সারা বছরই অশোক ফুল ফোটে, তবে বসন্ত ও হেমন্ত ঋতুতে এর ফুল বেশি দেখা যায়। গাছের ফল শিমের মতো আকৃতির, চ্যাপ্টা এবং হালকা বেগুনি রঙের হয়। বীজ থেকে সহজেই নতুন চারা জন্মে।
সিএ/এমই


