বসন্তের শুরুতে মৌলভীবাজার শহরের সবুজের ভিড়ে দৃষ্টি কেড়ে নিচ্ছে রুদ্রপলাশগাছ। ডালজুড়ে ফুটে থাকা উজ্জ্বল লাল ফুল যেন প্রকৃতিকে সাজিয়েছে নতুন রঙে। পথচারীদের চোখে পড়ে গাছটির রঙিন সৌন্দর্য, মনে করিয়ে দেয়—‘রাঙা হাসি রাশি রাশি অশোকে পলাশে’।
সোমবার সকালে মৌলভীবাজার পৌরসভার পুকুরের দক্ষিণপাড়ের পূর্ব দিকে দাঁড়িয়ে থাকা একটি রুদ্রপলাশগাছে অসংখ্য লাল ফুল ফুটে থাকতে দেখা যায়। কিছুটা মেঘলা সকালেও গাছটির উজ্জ্বলতা কমেনি। সবুজ পাতার ফাঁকে লাল ফুলগুলো যেন রংতুলিতে আঁকা ছবির মতো মনে হয়।
গাছটির ফুলে পাখিদেরও ভিড় দেখা যায়। কাঠশালিক ও বুলবুলিসহ নানা পাখি ফুলের কাছে এসে বসে। ফুলের রং ও ভেতরে জমে থাকা মিষ্টি স্বাদের পানির কারণে পাখি ও পতঙ্গ আকৃষ্ট হয়। কলসির মতো আকৃতির ফুলের ভেতরে এই পানি জমে থাকে, যা পাখিরা পান করে। এ কারণেই রুদ্রপলাশকে অনেক সময় ‘ফাউন্টেন ট্রি’ নামেও ডাকা হয়।
রুদ্রপলাশ শুধু সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছই নয়, লোকজ চিকিৎসাতেও এর ব্যবহার রয়েছে। গাছটির ছাল ও পাতা ক্ষত ও ব্যথা সারাতে ব্যবহার করা হয়। মৌলভীবাজার শহরের আরও কয়েকটি স্থানে এ গাছ লাগানো হয়েছে।
রুদ্রপলাশের আদি নিবাস আফ্রিকা। এর ইংরেজি নাম ‘আফ্রিকান টিউলিপ’। সাধারণত ১৫ থেকে ২০ মিটার উচ্চতার চিরসবুজ এই গাছের কাণ্ড সোজা এবং শাখা-প্রশাখা কিছুটা এলোমেলো। বাকল হালকা ধূসর রঙের, মসৃণ ও আঁশযুক্ত।
বসন্তের শুরুতে গাছটির ডালে থোকায় থোকায় লাল ফুল ফোটে। কোথাও কোথাও হলুদ রঙের রুদ্রপলাশও দেখা যায়। ফুলের ভেতরের অংশ লালচে সোনালি এবং পাপড়ির চারপাশে থাকে হলুদ রেখা। পাতাগুলো শাখার শেষ দিকে থাকায় গাছটি খুব বেশি ছায়াঘন হয় না।
রুদ্রপলাশ ফুলের প্রতি বাদুড়ও আকৃষ্ট হয় এবং তারাই এ ফুলের বেশির ভাগ পরাগায়ন ঘটায়। এর ফল দেখতে বর্শার ফলকের মতো। সাধারণত বর্ষার শেষে ফল পাকে এবং বীজ থেকে নতুন চারা জন্মায়। নৌকা আকৃতির একটি ফলে চার থেকে পাঁচটি বীজ থাকে।
সিএ/এমই


