সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে কৃষকদের ধানের বৈচিত্র্যময় জাত সম্পর্কে ধারণা দিতে এক জমিতে ৫১ জাতের ধানের আবাদ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এই উদ্যোগ নিয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘রাইস মিউজিয়াম’ বা ধান জাদুঘর।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার উজানীগাঁও গ্রামের পাশে সাংহাই হাওরে ব্রির সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্যোগে এই প্রদর্শনী করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে একই জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান রোপণ করা হয়েছে, যাতে কৃষকেরা ধানের জাতবৈচিত্র্য সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পেতে পারেন।
ব্রির কর্মকর্তারা জানান, হাওর অঞ্চলে বর্তমানে কৃষকেরা কয়েকটি নির্দিষ্ট হাইব্রিড বা উচ্চফলনশীল জাতের ধান বেশি আবাদ করছেন। তবে বোরো মৌসুমে হাওরের উপযোগী আরও অনেক ধানের জাত রয়েছে, যেগুলো ভালো ফলন দেয় এবং বীজ সংরক্ষণ করাও সম্ভব। এসব জাত সম্পর্কে কৃষকদের জানানো এবং আবাদে উৎসাহিত করতেই এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
ব্রির সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন প্রকল্পের আওতায় সাংহাই হাওরের আট শতক জমিতে এই প্রদর্শনী প্লট তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ৫১টি ভিন্ন জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে। প্রতিটি ধানের জাতের পাশে খুঁটি পুঁতে নাম লেখা হয়েছে এবং স্টিকারের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত পরিচিতিও দেওয়া হয়েছে।
প্রদর্শনীতে বোরো মৌসুমে হাওরের উপযোগী ব্রি ধান–১০৪, ব্রি ধান–১০২, ব্রি ধান–১০৮, ব্রি–৮৮, ব্রি–১০০সহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল জাতের ধান রোপণ করা হয়েছে। ব্রির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈশাখ মাসে কৃষকদের নিয়ে এই প্রদর্শনীর একটি উন্মুক্ত কার্যক্রম আয়োজন করা হবে, যাতে তাঁরা ফলন দেখে ভবিষ্যতে কোন জাতের ধান আবাদ করবেন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
স্থানীয় কৃষকেরাও এই উদ্যোগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষক ইন্তাজ আলী (৬০) বলেন, ‘সুনামগঞ্জ মূলত এক ফসলি এলাকা। হাওরে মূলত বোরো আবাদ হয়। তাঁরা একসময় চার থেকে পাঁচটি জাতের ধান আবাদ করতেন, যা এখন আর হয় না। এখন উচ্চফলনশীল জাত এসেছে, তবে এগুলো সম্পর্কে তাঁদের ধারণা কম। এখন দেখি আরও অনেক জাত আছে। বৈশাখ মাসে এসব ধানের ফলন দেখে চিন্তা করব আগামী বছর কোনটা লাগালে ভালো হবে।’
উজানীগাঁও গ্রামের কৃষক আবদুর রহমান বলেন, ‘বেশি ফলনের আশায় যাতে ক্ষতির মুখে না পড়তে হয়, সেটি দেখতে হবে। গত দুই বছরে হাওরে ব্রি–২৮ ও ২৯ ধানে ব্যাপক চিটা হওয়ায় কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যদি সেসব জাতের চেয়ে ভালো জাত এখানে থাকে, তবে আমরা এগুলো আবাদ করব।’
ব্রির সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান মো. রেজওয়ান ভূঁইয়া বলেন, রাইস মিউজিয়ামে যে ধানের আবাদ করা হয়েছে, তা হাওরের পরিবেশের জন্য উপযোগী। ব্রি উদ্ভাবিত ও প্রচলিত ধানের বিভিন্ন জাত সম্পর্কে কৃষকদের ধারণা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সিএ/এমই


