কক্সবাজারের রামুতে একটি ভাড়া বাসায় গোপনে ১ হাজার ও ৫০০ টাকার জাল নোট তৈরি হচ্ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যে এই জাল নোটের পরিমাণ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। ঈদের বাজারে এসব নোট বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে জাল নোট তৈরির কারিগর মোহাম্মদ ইমরান (২৩)কে গ্রেপ্তার করেছে।
আজ শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম মেরুংলোয়া আমতলিয়াপাড়ার একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ওই বাসার একটি কক্ষ থেকে ১ হাজার ও ৫০০ টাকার প্রায় পাঁচ লাখ টাকার জাল নোট ও জাল নোট তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার ইমরান যশোর সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা এলাকার লুৎফুর রহমানের ছেলে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মছিউর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান স্বীকার করেছেন যে, তিনি জাল নোট তৈরি করছিলেন এবং ঈদের বাজারে তা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তদন্তে পুলিশের ধারণা, এই কাজের সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে।
গ্রেপ্তার ইমরানকে সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে। র্যাব ও পুলিশ সূত্র জানায়, রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছর কক্সবাজার জেলার রামু, টেকনাফ, উখিয়া ও চকরিয়া এলাকায় জাল নোট ছড়িয়ে পড়ে। এ কাজে নারী–পুরুষসহ শতাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এপ্রিল মাসে রামু, চকরিয়া ও টেকনাফে জাল নোট তৈরির কয়েকটি ঘটনায় অভিযান চালানো হয়েছিল। সেসময় কয়েক লাখ টাকার জাল নোট জব্দ এবং সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। র্যাব–১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) আ ম ফারুক বলেন, সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ কারখানা স্থাপন করে জাল নোট তৈরির তথ্য পাওয়া গেছে। সংঘবদ্ধ একাধিক চক্র এই কাজে জড়িত।
সিএ/এমই


