নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় ঘরের ভেতর থেকে এক ৯ বছর বয়সী শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার একটি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার কিশোরসহ মোট ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির মা তাকে খাবার খেতে দিয়ে বাড়ির সামনে মাঠে ছাগল আনতে যান। প্রায় আধা ঘণ্টা পর তিনি বাড়িতে ফিরে এসে দেখেন গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় আড়ার সঙ্গে শিশুটির বস্ত্রহীন দেহ ঝুলছে। পরে তাঁর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মারা যাওয়া শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তিন ভাইবোনের মধ্যে সে ছিল সবার বড়। তার বাবা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক। ঘটনার দিন সকালে তিনি অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। দুপুরে বাড়িতে ফিরে খাবার খেয়ে আবার কাজে বেরিয়ে যান।
শিশুটির মা বলেন, ‘আমার মেয়েরে ভাত বাইড়া দিয়া ছাগল আনতাম গেছিলাম। ঘরে কেউ ছিল না। যাওনের সময় পাশে দোকানের কাছে তিনজন ছেরারে দেইখ্যা গেয়েছিলাম। পরে ফিইরা আওনের সময় তারারে আর পাই নাই। আমি ঘরে গিয়া মানুষসহ আমার মাইয়াডারে ধর্না থাইক্কা নামাই। আমার ছোট্ট শিশুটার সাথে যারা এই কাম করছে, আমি তারার ফাঁসি চাই।’
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ১০টার দিকে বলেন, ‘বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে ধর্ষণ করে ঝুলিয়ে রাখা হয়। যারা এই জঘন্য কাজ করেছে, আশা করি দ্রুত তাঁদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল সরকারসহ পুলিশের একাধিক দল ঘটনাটি তদন্তে কাজ করছে। ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের বয়স ১২ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে এবং বাকি দুজনের বয়স ২২ বছর। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।
সিএ/এমই


