খাগড়াছড়িতে বন বিভাগের অভিযানে উদ্ধার হওয়া বনমোরগ অবমুক্ত না করে অন্য মোরগ অবমুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্ত করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে খাগড়াছড়ির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা এই তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা সাংবাদিকদের জানান, বন বিভাগের মাটিরাঙ্গা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জাভেদুর রহমান সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন পানছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা ইলিয়াস চৌধুরী এবং খাগড়াছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা এস এম মোশারফ হোসেন। তাঁদের দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) গুইমারা উপজেলার জালিয়াপাড়া রেঞ্জ কার্যালয়ের সামনে এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি বনমোরগ উদ্ধার করে বন বিভাগ। পরে ওই ব্যক্তিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী উদ্ধার করা বন্যপ্রাণীকে নিকটবর্তী বনে অবমুক্ত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তার ওপর থাকে।
তবে অভিযোগ উঠেছে, উদ্ধার করা বনমোরগটি বনে অবমুক্ত করা হয়নি। বরং অন্য একটি দেশি মোরগ অবমুক্ত করে সেটির ছবি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই অভিযোগ উঠেছে জালিয়াপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
অভিযানের পর উদ্ধার করা বনমোরগটি বনে অবমুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করে তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে একটি ছবি পাঠান। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছবিতে থাকা মোরগটি উদ্ধার হওয়া বনমোরগ নয়। তাঁদের দাবি, বনমোরগ জব্দ করার পর দেশি মোরগ অবমুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পাঠানো ছবিটি আগের বছরের। তবে কেন সেই ছবি পাঠানো হয়েছে—এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
গণমাধ্যমে পাঠানো ছবির মোরগটি বনমোরগ নয় বলে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া। তিনি জানান, ছবিতে থাকা মোরগটি বনমোরগের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিল নেই।
সিএ/এমই


