সিলেটের জৈন্তাপুরে ট্রাকচালকদের কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ছাত্রদলের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ওই নেতার নাম রহমত মারুফ। তিনি জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। বৃহস্পতিবার ( ৫ ডিসেম্বর) বিকেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের আগে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সংগঠন থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চাঁদা দাবি এবং ট্রাকচালকদের ওপর হামলার অভিযোগে গোয়াইনঘাট উপজেলার বাসিন্দা ট্রাকচালক মাহফুজুর রহমান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রহমত মারুফের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় চালক ও শ্রমিকদের মারধর করা হয় এবং ট্রাক ভাঙচুর করা হয়।
মামলার পরপরই রহমত মারুফকে দল থেকে বহিষ্কার করে ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জুবের আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রহমত মারুফের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
লিখিত অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোয়াইনঘাট উপজেলার বাঘের সড়ক গ্রামের বাসিন্দা মাহফুজুর রহমান (২২) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সারী-গোয়াইন বেড়িবাঁধ প্রকল্পে নদী খননের মাটি পরিবহনের কাজে নিয়োজিত একটি ট্রাকের চালক। তিনি প্রায় তিন মাস ধরে জৈন্তাপুর উপজেলার জৈন্তাপুর ইউনিয়নের বিরাখাই-হাটিরগ্রাম এলাকায় কাজ করছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে নদী খননের কাজে নিয়োজিত মাটিবাহী কয়েকটি ট্রাক বিরাখাই-হাটিরগ্রাম এলাকায় রহমত মারুফের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সেগুলোর গতিরোধ করা হয়। এ সময় রহমত মারুফ তার বাবা জামাল আহমদসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনকে নিয়ে ট্রাকগুলো থামিয়ে দেন। পরে চালক ও শ্রমিকদের টেনেহিঁচড়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে গালিগালাজ করা হয়।
একপর্যায়ে প্রকল্প এলাকায় কাজ চালিয়ে যেতে হলে প্রতিদিন ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। চালক ও শ্রমিকেরা এতে রাজি না হওয়ায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাকচালক ও সহকারীদের কাছ থেকে টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার সময় মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত অন্তত ১০টি ট্রাক ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে রহমত মারুফকে আটক করে পুলিশ। পরে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সেটিকে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, রহমত মারুফ উপজেলা ছাত্রদলের পরিচয়ের পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নিজেকে সমন্বয়ক হিসেবেও পরিচয় দিতেন।
সিলেটের সহকারী পুলিশ সুপার (কানাইঘাট ও জৈন্তাপুর সার্কেল) সালমান নূর আলম জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সিএ/এমই


