মাগুরা শহরের জামরুলতলা এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর ওই কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ( ৫ ডিসেম্বর) বিকেলে এ ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের এক সহসভাপতিসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এনামুল হক হীরক (৫২), জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোছা. সোনিয়া সুলতানা (৪০) এবং আওয়ামী লীগের কর্মী উসমান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল পাঁচটার দিকে এনামুল হকের নেতৃত্বে একদল নেতা–কর্মী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে সড়কের পাশে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে সেখানে মোনাজাত শেষে তাঁরা স্থান ত্যাগ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এনামুল হককে বলতে শোনা যায়, ‘৫ আগস্টের পর দীর্ঘ ১৮ মাস দলীয় কার্যালয় বন্ধ ছিল। এখন যেভাবেই হোক একটি নির্বাচনের মাধ্যমে একটি দল ক্ষমতায় এসেছে। একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত হয়েছে। আমরা চাই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজনীতি শুরু হোক। আমরা একসঙ্গে মিলে বাংলাদেশকে আবার নতুন করে গড়তে চাই।’
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা সেখানে জড়ো হন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। একপর্যায়ে পতাকা স্ট্যান্ড ভাঙচুর করা হয়। পরে ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ভাঙা আসবাবে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আবদুর রহিম বলেন, ‘ঘটনা জানার পর সেখানে গিয়ে দেখি উৎসুক সাধারণ জনতা গণহত্যাকারী দল হিসেবে তাদের প্রতিহত করেছে। তবে তাঁদের দলীয় কার্যালয়ে কারা আগুন দিয়েছে জানি না।’
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, তৃতীয় তলার একটি কক্ষে আগুন জ্বলছিল। ভবনের মালিকদের একজন তাহমিদ হাসান জানান, ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন ওই কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে ভবনটি ভাড়া দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটটি কেউ ভাড়া নিতে আগ্রহ দেখায়নি। সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। বৃহস্পতিবার আবারও সেখানে আগুন দেওয়া হয়।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিরাজুল ইসলাম বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যালয় খোলা ও প্রচারণা চালানোর অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএ/এমই


