নওগাঁ শহরে রোজার মাসে ইফতারের অন্যতম প্রিয় পানীয় হলো পাতলা দই বা ঘোল, স্থানীয়ভাবে ‘মাঠা’ নামে পরিচিত। খেজুর, ছোলা ও পেঁয়াজসহ নানা ইফতারের পদ থাকলেও পাতলা দই বা ঘোল ছাড়া ইফতার যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। যুগ যুগ ধরে নওগাঁর মানুষ এই ঘোল খেয়ে আসছে, যা তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি শরীরের জন্যও পুষ্টিকর।
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, ফুটপাত কিংবা শহরের প্রসিদ্ধ দই–মিষ্টির দোকান থেকে টক দই কিনে পানি ও লবণ মিশিয়ে পাতলা ঘোল তৈরি করা হয়। রোজাদারদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতন ব্যক্তিরাও এটি পছন্দ করেন। রোজার প্রথম দিন থেকে শহরের ব্রিজের মোড়, তাজের মোড়, সরিষাহাটির মাড়, গোস্তহাটির মোড়, মুক্তির মোড় ও দয়ালের মোড়ের ফুটপাত ও অলিগলিতে টক দই বিক্রি করতে দেখা গেছে।
শহরের প্রসিদ্ধ দই–মিষ্টির দোকান ‘নওগাঁ মিষ্টান্ন ভান্ডার’-এ প্রতি হাঁড়ি (প্রায় ৬০০ গ্রাম) টক দই ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুটপাতের বিক্রেতাদের দাম ১৩০–১৪০ টাকা। কিছু বিশেষ দোকানে ৭০০–৮০০ গ্রাম হাঁড়ি ২০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। দাম বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ দুধের মূল্যের বৃদ্ধি। দোকানিরা জানান, গত বছর ১ লিটার দুধ ৬০–৭০ টাকায় কিনতেন, এবার তা ৮০–৯০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।
ডেপুটি সিভিল সার্জন মনির আলী আকন্দ বলেন, দুধের ননির থেকে চর্বি আলাদা করলে যে জলীয় অংশ থাকে, সেটিই মাঠা বা ঘোল। এটি ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন ও উপকারি ব্যাকটেরিয়া সমৃদ্ধ। ঘোল উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, হজমে সহায়তা দেয় এবং ক্লান্তি কমিয়ে মেজাজ ফুরফুরে রাখে।
কবি ও গবেষক আতাউল হক সিদ্দিকী জানান, ষাট-সত্তরের দশকে শহরের লিটন ব্রিজ এলাকায় হাঁড়ি নিয়ে মাঠা বিক্রি হতো। গরমের দিনে এটি খেয়ে মানুষ দমবন্ধ করে শীতলতা অনুভব করত। আশি-নব্বইয়ের দশকে কালীতলা ও চুড়িপট্টি এলাকায় দই বিক্রি শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে পানি ও লবণ মিশিয়ে মাঠা বা ঘোল তৈরি করার রীতি গড়ে ওঠে।
নওগাঁর রোজাদারদের ইফতারে এই পাতলা দই বা মাঠা বছরের পর বছর ধরে এক অনন্য ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা মানুষের দৈনন্দিন রোজা পালনকে সহজ ও স্বাদযুক্ত করে।
সিএ/এমই


