ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন আগে মৌলভীবাজার-১ আসনে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমেদের বাড়ি ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে ১১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। জুড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান (চুনু) বুধবার রাতে জুড়ী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিনহাজ উদ্দিন শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) সকালে মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মামলায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামসহ জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মী এবং একজন গণমাধ্যমকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদের বাড়ি জুড়ী উপজেলা সদরের উত্তর ভবানীপুর এলাকায়। বাড়ির সামনে তাঁর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় ছিল। নির্বাচনে তিনি ৯৮ হাজার ২৮২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম পান ৮৩ হাজার ১৩ ভোট।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকেরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট টানতে বিভিন্ন এলাকায় প্রান্তিক ও হতদরিদ্র ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণ করেন। ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে ফুলতলা ইউনিয়নে টাকা বিতরণের সময় স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিলে তাঁরা সরে যান। পরে গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের শিলুয়া চা-বাগান এলাকাতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে।
এজাহার অনুযায়ী, একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিএনপি প্রার্থীর বাড়ি ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। হামলায় একটি প্রাডো গাড়ির সামনের কাচ ভাঙচুর হয় এবং কয়েকজন নেতা–কর্মী আহত হন। তাঁরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে নির্বাচনের আগের দিন ১১ ফেব্রুয়ারি দলের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে জুড়ী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আজিম উদ্দিন বিএনপির প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমেদসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলনও হয়।
জুড়ী থানার ওসি মো. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, মামলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএ/এমই


