ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৪ (খানসামা ও চিরিরবন্দর) আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সব প্রার্থীর বাড়ি চিরিরবন্দর উপজেলায় হওয়ায় ভোটের মূল নজর এখন খানসামা উপজেলার দিকে। এখানে যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ভোট টানতে পারবে, সেই প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা বেশি। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত ভোটার এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট এ আসনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আক্তারুজ্জামান মিয়া এবং জামায়াতে ইসলামী থেকে প্রার্থী আফতাব উদ্দিন মোল্লা। এছাড়া জাতীয় পার্টির নূরুল আমিন শাহ (‘লাঙ্গল’ প্রতীক) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আনোয়ার হুসাইন নদভী (‘হাতপাখা’ প্রতীক) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
স্থানীয় ভোটাররা মনে করছেন, প্রধান দুই প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে তীব্র। এই আসনে বিএনপির ভোটব্যাংক শক্তিশালী হলেও, এবার তারা মাঠে সরাসরি সক্রিয় নয়। অন্যদিকে জামায়াত সক্রিয় প্রচারণার মাধ্যমে ভোট টানতে চেষ্টা করছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, আওয়ামী লীগ–সমর্থিত ভোটার এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটের ভাগাভাগি জয়ের চূড়ান্ত ফল প্রভাবিত করতে পারে।
খানসামার কাচিনিয়া বাজার এলাকার হাফিজুল ইসলাম বলেন, “সাধারণ মুসলিম ভোটার এবং আওয়ামী লীগ–সমর্থিত ভোটাররা অর্ধেক অর্ধেক হয়ে গেছে। হিন্দু ভোটরদের ভাগাভাগি জয়ের মূল ফ্যাক্টর।” ভুল্লারহাটের বাসিন্দা মাসুদ রানা জানান, “খানসামা উপজেলা বিএনপির ঘাঁটি। তবে এবার জামায়াত অনেকটা এগিয়ে গেছে। যে প্রার্থী খানসামার ভোট বেশি টানতে পারবে, তার কপাল খুলবে।”
মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২১ হাজার ২৭৮। এর মধ্যে খানসামা উপজেলার ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৫৯ এবং চিরিরবন্দর ২ লাখ ৬৭ হাজার ৩১৯। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীরা রাস্তাঘাট সংস্কার, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
বিএনপির প্রার্থী আক্তারুজ্জামান মিয়া বলেন, “উঠান বৈঠকসহ মানুষের পাশে ছিলাম। নির্বাচিত হলে এলাকার সমস্যা সমাধানে কাজ করব।”
জামায়াত প্রার্থী আফতাব উদ্দিন মোল্লা বলেন, “গণজোয়ার দেখা যাচ্ছে। মানুষ আমাদের পক্ষে ভোট দেবেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটও আমাদের সহায়তা করছে।”
সিএ/এমই


