আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এর আগে সুবিধাবঞ্চিত ও পথশিশুদের অধিকার সুরক্ষায় একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সেইফগার্ডিং দ্য রাইটস অব ডিসঅ্যাডভান্টেজড চিলড্রেন অ্যাহেড অব দ্য থার্টিনথ ন্যাশনাল পার্লামেন্টারি ইলেকশন টু থাউজ্যান্ড টোয়েন্টি সিক্স’ শীর্ষক এই বৈঠকের আয়োজন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডো, সহযোগিতায় ছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে ডিএনসিসির সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘একটি শহরে দূষণের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে শিশুদের ওপর। শিশুরাই সবচেয়ে ভলনারেবল গোষ্ঠী। আমাদের লক্ষ্য শিশুবান্ধব নগর গড়ে তোলা, যেখানে শিশুদের শ্বাস নেওয়ার মতো পরিবেশ ও খেলার জায়গা থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আরবান সোশ্যাল সেফটি নেট অত্যন্ত দুর্বল। জাতীয় সেফটি নেট কর্মসূচিগুলো গ্রামভিত্তিক হওয়ায় শহরের মানুষের প্রয়োজন যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।’
গোলটেবিল বৈঠকে কী-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন তরুণ সাংবাদিক মাহফুজা সুলতানা মুন্নি। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ব্যবহার বন্ধে সকল পক্ষকে সচেতন ও দায়বদ্ধ হতে হবে।’
অনুষ্ঠানে লিডো পথশিশুদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিতে রাজনৈতিক দলসমূহের জন্য ১২ দফা ইশতেহার ঘোষণা করে। প্রস্তাবিত ইশতেহারে উল্লেখযোগ্য দাবির মধ্যে রয়েছে— পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর গঠন, সকল শিশুর বৈধ পরিচয় নিশ্চিতকরণ, কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ চালু, শিশু হেল্প ডেস্ক স্থাপন, বিনামূল্যে শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা, জরুরি আবাসন ব্যবস্থা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, মাদকাসক্তি প্রতিরোধ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি এবং শিশুদের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যবহার না করার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার।
বৈঠকে শিশু অধিকারকর্মী, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি ও তরুণ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে শিশুদের অধিকারকে রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার না করার বিষয়ে সব দলের প্রতি অনুরোধ জানান।
সিএ/এএ


