বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা, দুর্নীতি ও রোগীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা ও রাজনৈতিক কর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় মোংলা সরকারি কলেজ গেট এলাকায় পৃথক ব্যানারে সাধারণ শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী এবং বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মী অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির তালুকদার ও গোলাম নূর জনি, বিএনপি নেতা খোরশেদ আলম, পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ঈমান হোসেন রিপন, যুবদল নেতা মো. আলাউদ্দিন, বিল্লাল হোসেন, মহাসিন ভূঁইয়া, রতন মাহমুদ, মামুন পাটোয়ারী, কলেজ ছাত্রদলের সম্পাদক শামীম হাসান, ছাত্রদল নেতা সাকিব মাহমুদ, মুন্নাসহ অন্যরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গত রোববার ভোরে বিষপান করা এক রোগীকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে স্বজনদের একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। তাদের দাবি, রোগীকে যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে দায়িত্বে অবহেলা করা হয়েছে। পরবর্তীতে ঘটনাটি আড়াল করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাত্রদল নেতা সজীব মিয়া শান্ত ও যুবদল নেতা হাফিজুর রহমান মানিকসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে শান্ত ও মানিককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তারা।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে এটিকে দুর্নীতি ও অনিয়মের কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষ সেখানে প্রতিনিয়ত দুর্ব্যবহার ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কিছু চিকিৎসক দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থেকে ব্যক্তিগত ক্লিনিকে রোগী দেখছেন এবং নিম্নমানের চিকিৎসা দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালে উল্টো মামলা-হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ও ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।
জানা গেছে, মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী মেডিকেল অফিসার অনুপম মজুমদার এ ঘটনায় মোংলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
সিএ/এএ


