গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের আওতায় কুষ্টিয়াসহ তিন জেলার কৃষকরা চলতি বোরো মৌসুমে কম খরচে সেচ সুবিধা পেয়ে স্বস্তিতে রয়েছেন। প্রকল্পের মাধ্যমে সহজলভ্য পানির কারণে ডিজেলনির্ভর সেচের চাপ কমেছে, ফলে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়ও কমছে।
কুষ্টিয়া সদরের উজানগ্রামের কৃষক হাছেন মণ্ডল পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। তিনি জানান, জিকে প্রকল্পের আওতায় থাকায় সহজেই সেচের পানি পাচ্ছেন, ফলে ডিজেল বা অতিরিক্ত খরচ নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে না। অন্য অনেক অঞ্চলের কৃষকদের যেখানে সেচ পাম্পের ডিজেলের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা ও বেশি খরচ করতে হচ্ছে, সেখানে জিকে প্রকল্পভুক্ত এলাকার কৃষকরা তুলনামূলক কম খরচে সেচ পাচ্ছেন।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, কুষ্টিয়ায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি জিকে প্রকল্পের আওতায় সেচ সুবিধা পাচ্ছে। সব মিলিয়ে তিন জেলায় প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর বোরো জমিতে এই প্রকল্পের পানি ব্যবহার হচ্ছে। এতে কৃষকদের অর্থ ও জ্বালানি সাশ্রয় হচ্ছে এবং প্রকল্পের আওতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে জেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে সেচ ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতা ও কৃষকদের নিয়ে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ মার্চ উজানগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে আয়োজিত সভায় কৃষকরা সময়মতো পানি সরবরাহ, সেচ খালের নিয়মিত সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি নতুন খাল খননের মাধ্যমে প্রকল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন তারা।
আইলচারা ইউনিয়নের কৃষক ও সেচ ব্যবস্থাপনা দলের সভাপতি মোসলেম শেখ বলেন, জিকে প্রকল্পের পানি ব্যবহার করে তিনি ১০ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করছেন এবং এ বছর পানি নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই। তবে কিছু খাল চালকলের বর্জ্যে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহে সমস্যা তৈরি হচ্ছে, যা দ্রুত সমাধানের দাবি জানান তিনি।
অন্য কৃষকরাও মনে করেন, পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে আবাদ ও ফলন আরও বাড়ানো সম্ভব। যেসব এলাকায় খাল ভরাট বা দখল হয়ে গেছে, সেগুলো পুনরুদ্ধার করে সেচের আওতায় আনার ওপর জোর দেন তারা।
সেচ ব্যবস্থাপনা দলের নেতারা জানান, ভেড়ামারার মূল স্টেশন থেকে দুটি পাম্পের মাধ্যমে পদ্মার পানি খালে সরবরাহ করা হচ্ছে। এ বছর দুটি পাম্প সচল থাকায় পানি সরবরাহে কোনো বড় সমস্যা নেই এবং মৌসুমের শুরুতেই কৃষকরা সেচ সুবিধা পেয়েছেন।
সেচ ব্যবস্থাপনা ফেডারেশনের সভাপতি শাফায়েত হোসেন পল্টু বলেন, চার জেলার জন্য পরিকল্পিত এই প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে তিন জেলার কৃষকরা সেচ সুবিধা পাচ্ছেন। কিছু এলাকায় শীতকালীন ফসল থাকায় সেখানে পর্যায়ক্রমে পানি সরবরাহ করা হবে। তেলের সংকটের সময়ে এ প্রকল্প কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করছে।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রশিদুর রহমান বাপ্পি বলেন, দুটি পাম্পের মাধ্যমে নিয়মিত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে এবং কৃষকদের দেওয়া পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান বলেন, কৃষকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জিকে প্রকল্পের মাধ্যমে আরও বেশি জমিতে সেচ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
সিএ/এএ


