দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় চলমান কালবৈশাখী মৌসুমে বিভিন্ন সড়কের দু’পাশে থাকা শুকনো ও মরা গাছ পথচারীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ এক বছর পার হলেও এসব গাছ অপসারণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অনেক স্থানে কেটে ফেলা গাছের গোলা ব্যস্ত সড়কের পাশে পড়ে থাকায় চলাচলেও তৈরি হচ্ছে বাড়তি ঝুঁকি। প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়ক এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুলবাড়ী-মাদিলাহাট পাকা সড়কের প্রায় ৮ কিলোমিটারজুড়ে দুই পাশে অর্ধশতাধিক মৃত ও অর্ধমৃত গাছ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। অধিকাংশই বিদেশি প্রজাতির গাছ, যা ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাচ্ছে। অনেক গাছের ডাল রাস্তার ওপর ঝুঁকে পড়ায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এ ছাড়া সুজাপুর, মেলাবাড়ী, চাঁদপাড়া স্কুল এলাকা ও ডাকবাংলো এলাকায় কেটে রাখা গাছের গোলা দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে। অভিযোগ রয়েছে, রাতের অন্ধকারে অসাধু চক্র এসব কাঠ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে, ফলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।
চাঁদপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমদাদুল হক ও মেলাবাড়ী ভূমি অফিসের তহশিলদার লুৎফর রহমান জানান, ২০২১ সালে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য কিছু গাছ কাটা হয়েছিল এবং এ বিষয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। কিন্তু পরিত্যক্ত গাছ ও কাঠ অপসারণ বা নিলামের উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়ন হয়নি, ফলে সেগুলো নষ্ট হচ্ছে।
ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে পথচারী ও যানচালকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। স্থানীয় ভ্যান ও রিকশাচালক লোকমান হোসেন, জিয়ারুল হক, ছদরুল, দ্বিজেন ও হাসিবুল বলেন, ‘আমরা নিয়মিত এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি। মরা গাছ আর পড়ে থাকা গোলাই আমাদের জন্য মরণফাঁদ হয়ে আছে। বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কর্মকর্তারা কি এগুলো দেখতে পান না?’
শিক্ষক প্রতিনিধিরাও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পুখুরী স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মান্নান এবং মাদিলাহাট কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আবু শহীদ বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকতে হয়। দ্রুত এসব ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণের দাবি জানান তারা।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আল সিরাজ বলেন, এ সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবসময় কাজ করে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত গাছগুলো অপসারণ করা।
এলাকার জনপ্রতিনিধিরাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এলুয়াড়ী ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা নবিউল ইসলাম, দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম এবং খয়েরবাড়ী ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান শামিম হোসেন জানান, বিভিন্ন ইউনিয়নে মরা গাছ ও ঝুঁকিপূর্ণ ডালপালা বসতবাড়ি ও সড়কের ওপর বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কালবৈশাখী শুরু হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে।
ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান জানান, উপজেলার কোথায় কোথায় মরা গাছ রয়েছে তা চিহ্নিত করে দরপত্রের মাধ্যমে দ্রুত অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। অন্যদিকে, ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার ফাহিম মাসউদ বলেন, বন বিভাগের আওতাধীন এলাকায় এ ধরনের গাছ থাকলে তথ্য দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএ/এএ


