আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) রায় বাতিলের দাবিতে শেখ হাসিনার পক্ষে কোনো চিঠি ট্রাইব্যুনাল পায়নি বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো চিঠি পাঠানো হলে তা আদালত অবমাননার শামিল হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করে বলেন, এ ধরনের কোনো চিঠি ট্রাইব্যুনালে পৌঁছায়নি। গণমাধ্যমের মাধ্যমে একটি চিঠি পাঠানোর দাবি সম্পর্কে জানা গেছে, তবে বাস্তবে এমন কিছু পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, যদি কোনো আইনি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বা কোনো পক্ষ এ ধরনের চিঠি পাঠায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় একটি বিদেশি ল ফার্মের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, বিষয়টি ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “ট্রাইব্যুনালের কোনো বিচারককে যদি অ্যাড্রেস করতে হয়, তাহলে কি ‘ডিয়ার আইসিটি’ বলবে, নাকি ‘অনারেবল জজ’? যদি ব্রিটিশ ল ফার্মের পক্ষ থেকে হয়, তাহলে তাদের তো এটুকু জানার কথা। এটা তো মনে হচ্ছে একেবারে একটা ভুয়া চিঠি। কিংবা কোনো ভুয়া ল ফার্ম দেশ থেকে হচ্ছে কিনা; কেরানীগঞ্জ-জিঞ্জিরা থেকে হচ্ছে কিনা, তা বলা যাচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের উড়ো চিঠি ছড়ানো হতে পারে। তবে এসব বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল বা প্রসিকিউশন টিম উদ্বিগ্ন নয় এবং বিচার কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতেই চলবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, লন্ডনভিত্তিক যে ল ফার্মের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের কোনো অস্তিত্ব দেশে পাওয়া গেলে বা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত ৩০ মার্চ শেখ হাসিনার পক্ষে রায় বাতিলের দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ইমেইলে চিঠি পাঠানোর দাবি করেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক আইনজীবী কিংসলি ন্যাপলি।
সিএ/এএ


