ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে সাত মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরে জেলায় এ ধরনের প্রথম মৃত্যুর ঘটনা বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং রোগীর সংখ্যাও বাড়তির দিকে রয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রহিমা আক্তার নামের ওই শিশুর মৃত্যু হয়। সে মাদারীপুর সদর উপজেলার কাউদিয়া গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ খানের মেয়ে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান জানান, ‘মৃত শিশুটির নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। এখনো পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। তবে উপসর্গের ভিত্তিতে চিকিৎসকরা এটিকে ক্লিনিক্যালি হামজনিত মৃত্যু হিসেবে ধারণা করছেন।’
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির সময় তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার মৃত্যু ঘটে।
এদিকে জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে বলে জানিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত ফরিদপুরে মোট ৬৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে মোট ২৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ১৮ জন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং ৮ জন জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
ফরিদপুরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. শাহ মোহাম্মাদ বদরুদ্দোজা বলেন, ‘প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দুইজন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছে। নিশ্চিতভাবে রোগ শনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। সরকারি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হাম-রুবেলা প্রতিরোধে নিয়মিত টিকা প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
সিএ/এএ


