সুন্দরবনে শুরু হচ্ছে বার্ষিক মধু আহরণ মৌসুম। গাছে গাছে খলিসা, গরান ও পশুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ফুটে ওঠায় মধু সংগ্রহের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মৌয়ালরা ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। একই সঙ্গে মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বনদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে কিছুটা স্বস্তি এলেও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও মৌয়ালরা জীবন ঝুঁকি নিয়ে মধু সংগ্রহে নামবেন। তবে বাঘ ও কুমিরের পাশাপাশি এবার তাদের প্রধান শঙ্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে বনদস্যুদের তৎপরতা।
মৌয়ালদের অভিযোগ, সুন্দরবনের ভেতরে সক্রিয় দস্যু চক্র অপহরণ ও মুক্তিপণের মাধ্যমে তাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। নির্ধারিত অর্থ না দিলে নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় একাধিক মৌয়াল জানান, সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণের ঘটনা বেড়েছে। ফলে অনেকেই নিরাপত্তার অভাবে বনে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন।
গাবুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকে দেখছি, মৌয়ালরা জঙ্গলে যাওয়ার সময় বাঘ-কুমিরকে তেমন ভয় পেতেন না। কিন্তু এখন বনদস্যু আতঙ্ক মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। একবার দস্যুদের হাতে ধরা পড়লে আর রক্ষা নেই। তাই ভয়ে এবার অনেকেই মধু কাটা বাদ দিয়ে এলাকায় দিনমজুর খাটার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।’
মৌয়াল আক্কাস আলী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বাপ-দাদার পেশা হিসেবে সুন্দরবনে মধু কাটতে যাই। কখনো পিছপা হইনি। আগে বেশ কয়েক বছর বনে বনদস্যুদের চাপ ছিল না, নির্বিঘ্নে মোম-মধু কেটে আনতে পেরেছি। কিন্তু এবার শুনছি জঙ্গলে দস্যুতা বেড়েছে। ভয়ে সুন্দরবনে যাওয়া ছেড়ে দেয়ার উপক্রম হয়েছে।’
বন বিভাগের তথ্যে দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে মধু আহরণের পরিমাণ ওঠানামা করেছে। মৌয়ালদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে বন বিভাগ জানিয়েছে, নিরাপত্তা জোরদারে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে যৌথ টহল বাড়ানো হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সিএ/এমআর


