ঈদের ছুটিকে ঘিরে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে নেমেছে মানুষের ঢল। সাগরতীরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উপচে পড়া ভিড়, যেখানে হাজারো পর্যটক পরিবার-পরিজন নিয়ে উপভোগ করছেন আনন্দময় সময়।
ঈদের দিনে বৃষ্টিপাত থাকলেও পরদিন আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে ওঠায় সাগরপাড়ে বেড়েছে ভিড়। পর্যটকদের পদচারণায় মাদ্রাসা পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা মানুষে পূর্ণ হয়ে ওঠে।
কেউ সমুদ্রের ঢেউয়ে মেতে উঠেছেন, আবার কেউ বালিয়াড়িতে সময় কাটাচ্ছেন। সাগরের নোনাজল ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক রাবেয়া রহমান বলেন, মনে হয়েছিল ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটক কম হবে। কিন্তু এসে দেখি সাগরতীরে পা ফেলার জায়গা নেই। এত মানুষ, এত হৈ হুল্লোড় আগে দেখিনি। খুব আনন্দ লাগছে এত মানুষের আনন্দ দেখে।
সিলেট থেকে সাত বন্ধু একসঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে এসে আনন্দে মেতে উঠেছেন। তাদের মধ্যে একজন ড্রোনের মাধ্যমে পুরো সৈকতের দৃশ্য ধারণ করছেন। রাহাতুল ইসলাম বলেন, ড্রোন উড়িয়ে দেখছি কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত কত মানুষ হবে। কিন্তু ড্রোন যতই উপরে তুলছি দেখছি ততই মানুষ। মনে হয়, ২ লাখের কাছাকাছি মানুষ হবে। ড্রোনের ছবি ও ভিডিও নিতে খুব ভালো লাগছে।
ঢাকার মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে আসা আব্দুস সোবহান বলেন, ‘ঈদের দিন কক্সবাজারে এসেছি, কিন্তু বৃষ্টির কারণে তেমন ভালো লাগেনি। আজকে দেখি চমৎকার আবহাওয়া। খুব বেশি আনন্দ করছি।’
পর্যটকের চাপ বাড়ায় দায়িত্ব বেড়েছে লাইফগার্ড কর্মীদের। তারা ওয়াচ টাওয়ার থেকে নজরদারি চালানোর পাশাপাশি টহল ও মাইকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে জনবল স্বল্পতার কারণে তাদের বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে।
সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার প্রজেক্ট কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, দেড় মাসের পর্যটকের খরা কাটিয়ে ঈদের ছুটিতে পর্যটকে মুখরিত। লাখের বেশি পর্যটকের সমুদ্রস্নানে নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কারণ লাখের বেশি পর্যটকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে মাত্র ২৭ জন কর্মী। তারপরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে পর্যটকদের সমুদ্রস্নানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়া যায়।
ট্যুরিস্ট পুলিশও নিরাপত্তা জোরদার করেছে। বালিয়াড়ি, হোটেল-মোটেল জোন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি, ইনানী ও পাতুয়ারটেক এলাকাতেও পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঈদের ছুটিতে প্রকৃতি ও সমুদ্রের টানে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো কক্সবাজার।
সিএ/এমআর


