ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তহবিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি তথ্যকে বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছেন বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি জানিয়েছেন, দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় করপোরেশনের ব্যাংক হিসাবে ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা থাকার দাবি বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই।
শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি ডিএনসিসির প্রকৃত আর্থিক অবস্থার ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। সেখানে বলা হয়, ২৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের সময় করপোরেশনের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহের প্রধান উৎস সাধারণ তহবিলে নগদ স্থিতি ছিল মাত্র ২৫ কোটি টাকা, যা ডিএনসিসির ইতিহাসে সর্বনিম্ন।
প্রশাসকের বক্তব্য অনুযায়ী, করপোরেশনের বিভিন্ন সংরক্ষিত তহবিলে যেমন পেনশন, জিপিএফ ও অন্যান্য জামানত তহবিলে মোট প্রায় ৮২৫ কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে রাখা ছিল। এসব অর্থ আইনি বিধান অনুযায়ী সাধারণ ব্যয় বা উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করার সুযোগ নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ এই সংরক্ষিত অর্থসহ বিভিন্ন তহবিলের হিসাব একত্র করে মোট ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকার একটি তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেছেন। এর মাধ্যমে বর্তমান প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত ডিএনসিসির মোট ক্যাশ ব্যালেন্স ছিল ১ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা। ওই সময়কালে সাবেক প্রশাসক বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা ব্যয় করেন।
পরবর্তীতে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আরও ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
বর্তমান প্রশাসকের বক্তব্য অনুযায়ী, দায়িত্ব ছাড়ার শেষ কর্মদিবসে সাবেক প্রশাসক ৩৬টি বিলের নথি তড়িঘড়ি করে অনুমোদন করেন, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৪২ কোটি টাকা। এসব নথি বর্তমানে বিস্তারিত যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘সাবেক প্রশাসক তঞ্চকতার আশ্রয় নিয়ে সাধারণ তহবিল ও সংরক্ষিত তহবিলকে একত্রে মিলিয়ে নগরবাসীকে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াস চালিয়েছেন।’ তিনি জানান, নগরবাসীর কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই এই ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে।
সিএ/এমআর


