মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরে অসুস্থ সন্তানের ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে জনতার হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন এক বাবা ও তার স্বজনরা। বুধবার (৪ মার্চ) রাত সোয়া ১১টার দিকে স্টেশন রোড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সৌদি প্রবাসী মো. মিজান (৩৫) তার ছয় বছর বয়সী থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত সন্তানকে নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে শ্রীমঙ্গলে যান। মিজানের সঙ্গে তার স্ত্রী মেহেরিন জাহান শ্রাবন্তির (২৪) কিছুদিন আগে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। তবে সন্তানের কারণে তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। বর্তমানে শ্রাবন্তি শ্রীমঙ্গলে তার এক প্রবাসী ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে বসবাস করছেন।
সন্তানের টানে মিজান গত সপ্তাহেও শ্রীমঙ্গলে গিয়েছিলেন এবং শিশুটিকে দেখে ৫ হাজার টাকা দিয়ে আসেন। এবার তিনি তার ভাগ্নে সোহেলকে সঙ্গে নিয়ে একটি প্রাইভেটকারে শহরে আসেন। শহরে তারা একটি রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খান এবং সন্তানের জন্য ঈদের কেনাকাটা করেন। এ সময় শিশুটি বাবার সঙ্গে গাড়িতে ঘুরতে যেতে চায়।
শিশুটির সেই ইচ্ছা পূরণ করতে মিজান তাকে নিয়ে গাড়িতে ওঠেন। এ সময় শ্রাবন্তি চিৎকার করে অভিযোগ করেন, তার সন্তানকে ছিনতাইকারীরা অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে। এতে আশপাশের লোকজন গাড়ির পিছু নেয়। নিরাপত্তার কথা ভেবে গাড়ি থেকে না নেমে চালক শহরের চৌমুহনা এলাকার দিকে এগিয়ে যান।
মুহূর্তেই এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, একটি সাদা প্রাইভেটকারে শিশু অপহরণ করা হচ্ছে। পরে কিছু অতি উৎসাহী যুবক গাড়িটি আটকে ভাঙচুর শুরু করে এবং গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের বেধড়ক মারধর করে। মিজান তার সন্তানকে নিয়ে পালাতে সক্ষম হলেও গাড়িতে থাকা ভাগ্নে ও চালক পালাতে পারেননি। উত্তেজিত জনতা তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে গণপিটুনির মতো মারধর করে এবং গাড়িটি ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন, যা ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়।
পুলিশ খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দুজনকে উদ্ধার করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রাইভেটকারটি থানায় নিয়ে যায়। পরে সন্তানের মা-বাবাকেও থানায় আনা হয়। তদন্তে জানা যায়, ঘটনাটি অপহরণ বা ছিনতাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, খবর পেয়ে রাতেই আহত দুজনকে উদ্ধার ও থানায় নেওয়া হয়েছে। উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘ডিভোর্স হওয়ার পরও তারা সন্তানের কারণে একসঙ্গে রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়েছিলেন। এরপর এই ঘটনা ঘটেছে। উভয়পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সিএ/এএ


