সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, তিনি নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমান অন্তবর্তী সরকারের অংশ ছিলেন না। তিনি বলেন, ‘একটা ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটানো দরকার…সরকারের একটা অগ্রাধিকার এবং জনগণের দাবির মুখে আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সহায়তা করার চেষ্টা করেছি। সরকারের অংশ হিসেবে কাজ করিনি।’
রোববার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘অঙ্গীকার থেকে বাস্তবায়ন: রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন বদিউল আলম মজুমদার। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।
অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, কখনো কখনো এমন ধারণা তৈরি হয় যে, তিনি সরকারের অংশ ছিলেন। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের দায়িত্ব পেতে এক সাংবাদিক তাঁকে ফোন করেন। তবে এর আগে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তাঁর কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমি সরকারের অংশও ছিলাম না। দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার মতামতও নেওয়া হয়নি।’
দর্শকসারি থেকে একজন মন্তব্য করেন, ‘এটা তো অসৌজন্যমূলক।’ এর উত্তরে বদিউল আলম বলেন, ‘হয়তো উনি (প্রধান উপদেষ্টা) মনে করেছেন যে, আমার কিছু অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারবে।’ মঞ্চে উপস্থিত সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, ‘কাছের লোক।’ বদিউল আলম হেসে জবাব দেন, ‘আমার মনে হয় না উনি কারও সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বয়োজ্যেষ্ঠ ও অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন।’
তিনি জানান, তিনি এবং কমিশনের বাকি আটজন সদস্য কয়েক মাস কাজ করে রিপোর্ট ও সুপারিশ পেশ করেছেন। সরকারের সঙ্গে তাঁর এটুকুই সম্পৃক্ততা ছিল এবং তিনি কোনো সম্মানী নেননি। বদিউল আলম আরও বলেন, ঐকমত্য কমিশনে তিনি সুজন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন এবং কমিশন গঠনের ব্যাপারে তাঁদের কোনো ভূমিকা ছিল না।
মঞ্চে থাকা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার তুলনা করে তিনি বলেন, ‘দেবপ্রিয়র যতটুকু সম্পৃক্ততা ছিল, আমারও ততটুকুই।’ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান। তিনি বদিউল আলমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘উনি নিজের সম্পর্কে অনেক কৈফিয়ত দিয়েছেন। আমরা একটা কথা জানি, সৎসঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎসঙ্গে সর্বনাশ। বোধহয় সেই কারণে কৈফিয়তটা উনাকে দিতে হয়েছে। আরেকটা হচ্ছে, আপনি যত সুন্দর পোশাকই পরুন না কেন, গায়ে যত পারফিউম মাখুন না কেন, কর্দমাক্ত রাস্তায় হাঁটলে কাদা লাগবেই।’
সিএ/এমই


