চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বালু উত্তোলনের লুট হওয়া তেল নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনার চার দিন পর সাগর উপকূল থেকে এক নিরাপত্তা প্রহরীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির নাম মো. সালাউদ্দিন (৪৫)। তিনি ওই সংঘর্ষের পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মান্দারীটোলা এলাকার জেএমআই সংলগ্ন সাগর উপকূলীয় একটি খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত সালাউদ্দিন একই ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া এলাকার মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে।
নিহতের বোনজামাই আকবর হোসেন বাদশা জানান, গত শনিবার বিকেলে বালু উত্তোলনের ড্রেজার যন্ত্রের লুট হওয়া তেল নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের কোপে ছয়জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় নিরাপত্তা প্রহরী সালাউদ্দিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে সন্ত্রাসীরা আটকে রাখে। ঘটনার পর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। চার দিন পর সাগর উপকূলের খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার দাবি, ধারালো অস্ত্রের আঘাতেই সালাউদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিখোঁজ ওই ব্যক্তিকে কে বা কারা হত্যা করেছে, সে বিষয়ে তারা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে প্রাথমিকভাবে মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
সীতাকুণ্ড থানার উপপরিদর্শক অনিক ভক্ত বলেন, উদ্ধার করা মরদেহের মাথা ও কপালে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বালু উত্তোলনকারী যন্ত্রের তেল সরবরাহকারী জগলুল হোসেন নয়ন জানান, গত শনিবার বিকেলে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল সাগরে বসানো ড্রেজার যন্ত্র থেকে প্রায় দুই হাজার লিটার তেল লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার কিছুক্ষণ পর তার ভাই আশরাফ হোসেন কাজল কয়েকজন কর্মচারী নিয়ে ড্রেজার যন্ত্রের কাছে যান।
তিনি বলেন, সেখানে নিরাপত্তা প্রহরী সালাউদ্দিন তেল লুটের ঘটনার কথা জানিয়ে সন্ত্রাসীরা কোথায় লুকিয়ে আছে তাও দেখিয়ে দেন। তেল উদ্ধারে গেলে সন্ত্রাসীরা কাজল ও সালাউদ্দিনসহ কয়েকজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। অন্যরা প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে গেলেও রক্তাক্ত অবস্থায় সালাউদ্দিনকে আটকে রাখা হয়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার বিকেলে সাগর উপকূল থেকে সালাউদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার হয়। তিনি স্থানীয় হওয়ায় সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করে সাগরে ফেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন জগলুল হোসেন নয়ন। তিনি আরও জানান, ঘটনার পরদিন সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় সাতজনকে নামীয় এবং ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর জানান, বালু উত্তোলনের তেল লুট ও সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মামলা রয়েছে। ঘটনার চার দিন পর নিখোঁজ নিরাপত্তা প্রহরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রিফাত নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।
সিএ/এএ


