ময়মনসিংহের নান্দাইলের জাহাঙ্গীরপুর আলিম মাদরাসার দুই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসি)-এর কাছে পাঠানো শিক্ষকদের সনদ শনাক্তের প্রতিবেদনে এ ঘটনা প্রকাশ পায়। অভিযুক্ত দুই শিক্ষক অন্তত ১১ বছর ধরে শিক্ষকতা করে আসছিলেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসি) গত ৭ জানুয়ারি একটি চিঠিতে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের তথ্য, সত্যায়িত নিবন্ধন প্রত্যয়নপত্র এবং এমপিও শিট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে নান্দাইল উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের শিক্ষকদের তথ্য পাঠায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাঙ্গীরপুর আলিম মাদরাসায় ২০১৫ সালের ১০ মে শরীরচর্চা শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন নাসরিন ইসরাত জাহান। তিনি প্রায় ১১ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন এবং মাসে কমপক্ষে ৩৫ হাজার টাকা বেতন উত্তোলন করেছেন। কিন্তু তার নিবন্ধন নম্বরে অনলাইনে অন্য একজনের নাম আসে। অপরদিকে, আরবি বিভাগের শিক্ষক শাহনাজ পারভিনের নাম অনলাইনে কোনো নিবন্ধনে নেই।
মাদরাসা অধ্যক্ষ মো. আশরাফ আলী বলেন, দুই শিক্ষকের তথ্য যাচাই করে এনটিআরসিতে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত শিক্ষক নাসরিন ইসরাত জাহান বলেন, এটি একটি ভুল হয়ে গেছে। অনেক আগে নাম সংশোধনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগে কোনো সমস্যা ছিল না, তাই বেতন উত্তোলন হয়েছে। আর শিক্ষক শাহনাজ পারভিন বলেন, অনলাইনে নাম না থাকা কোনো সমস্যা নয়, সব ঠিক হয়ে যাবে।
নান্দাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, তার দপ্তরে শিক্ষকদের কোনো তথ্য নেই। প্রতিষ্ঠানেরই দায়িত্ব সব কাগজপত্র সংরক্ষণ ও দেখভাল করা।
সিএ/এএ


