পঞ্চগড়-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপি নেতা সারজিস আলম বলেছেন, মানুষকে ধমক দিয়ে ভোট নেওয়ার পাঁয়তারা করবেন না। তাঁর ভাষায়, “ওইদিন এখন নাই যে, ধমক দিলে ভোট পাওয়া যায়। একটা ধমক দিলে ১০টা করে ভোট কমে যাবে।”
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
সারজিস আলম বলেন, “যে দুর্নীতি, ডামি কিংবা রাতের নির্বাচনের কারণে স্বৈরাচার তৈরি হয়েছে, সেই নির্বাচনের মেকানিজম করতে দিয়ে আমরা আরেকটা স্বৈরাচার হতে দিতে পারি না।” তিনি আরও বলেন, যারা জোর খাটানো ও পেশিশক্তির প্রদর্শনের চেষ্টা করছে, তারা বুঝতে পারছে না যে বর্তমান পরিস্থিতি বদলে গেছে। তাঁর ভাষায়, “তারা জানে না এটা ২৪-এর আগের বাংলাদেশ না। তারা জানে না যে, এইটা অভ্যুত্থান পরবর্তী সেই বাংলাদেশ।”
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, “এদের বয়স কম হতে পারে, কিন্তু এরা ওই ছাত্র-জনতা, যারা হাসিনার মতো স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে।” তিনি দাবি করেন, জনগণ এখন সচেতন এবং ভয় দেখিয়ে বা হুমকি দিয়ে ভোট আদায় করার চেষ্টা করলে তার উল্টো প্রতিক্রিয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সারজিস বলেন, “নির্বাচন কমিশন যদি কোনো একটা দলের প্রতি বা ব্যক্তির প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করে, তাহলে সেই নির্বাচন কমিশনের বিগত সময়ে নির্বাচন কমিশন আর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কিছুদিন আগে কি অবস্থা হয়েছিল, সেই চিত্রটা দেয়ালে টানিয়ে রাখা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা ২৪-এর অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই।” একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “কোনো অপশক্তি যদি মনে করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে, পেশিশক্তির প্রয়োগ করে, কালো টাকার ব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে, ভোটের মাঠে হুমকি দিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে অন্য কোনো উপায়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে, তাহলে নির্বাচন কমিশন কতটুকু আইনগত ব্যবস্থা নেবে জানি না, কিন্তু আমরা রাজনৈতিকভাবে তাদের প্রতিহত করব, ইনশাআল্লাহ।”
সিএ/এএ


