ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় বিরল প্রজাতির একটি গৃধিনী শকুন উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার নাটিমা গ্রামের একটি মাঠ থেকে অসুস্থ অবস্থায় শকুনটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত শকুনটি বর্তমানে বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে নাটিমা গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন মাঠে একটি বিশাল আকৃতির পাখিকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি পাখিটিকে বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং বিষয়টি স্থানীয়দের জানান।
খবর পেয়ে স্থানীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মী নাজমুল হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে পাখিটিকে হিমালয়ের গৃধিনী শকুন বলে শনাক্ত করেন। এরপর তিনি উপজেলা বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার শফিকুল ইসলামকে বিষয়টি অবহিত করেন। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শকুনটি বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়।
আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে মহেশপুর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে শকুনটির চিকিৎসা শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পাখিটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মহেশপুর উপজেলা বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পাখিটির চিকিৎসা চলছে। দুই দিনের মধ্যে সুস্থ হলে প্রাকৃতিক পরিবেশে মুক্ত করে দেওয়া হবে। তবে অবস্থার অবনতি হলে খুলনায় পাঠানো হবে।’
প্রকৃতিপ্রেমী নাজমুল হাসান বলেন, ‘হিমালয় অঞ্চলের তীব্র শীতের কারণে এসব শকুন অনেক দূর পর্যন্ত বিচরণ করে।’ ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে খাবারের সংকটে পড়ে শকুনটি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান, শকুনটিকে নিয়মিত খাবার খাওয়ানো হচ্ছে এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া শকুনটির ডানা মেললে দৈর্ঘ্য প্রায় আট ফুট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিএ/এএ


