চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও বাড়েনি চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের বরাদ্দ। নতুন ভবন নির্মাণের এক দশক পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম না পাওয়ায় হাসপাতালটির কার্যক্রম এখনো ৩১ শয্যাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এই হাসপাতালে ১০ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র চারজন। হাসপাতালের জন্য একটি অ্যাম্বুল্যান্স থাকলেও চালক না থাকায় সেটি নিয়মিত সেবায় ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে জরুরি রোগী পরিবহনসহ সামগ্রিক চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
একই ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে উপজেলার উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও। উপজেলার সাতটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে চারটিতে কোনো চিকিৎসক নেই। একটি কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকের পদ শূন্য পড়ে আছে। বাকি তিনটি কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকেরা ডেপুটেশনে রয়েছেন।
সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১০টি চিকিৎসক পদের মধ্যে আরএমও, জুনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন, সার্জারি কনসালটেন্ট এবং একজন চিকিৎসা কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া গাইনি চিকিৎসক হোসনে জাহান আঁখি দীর্ঘদিন ধরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এবং অ্যানেসথেসিয়ার আফরোজা আক্তার ঢাকা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ডেপুটেশনে কর্মরত আছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর ধরে হাসপাতালে কোনো অ্যাম্বুল্যান্স না থাকায় সম্প্রতি একটি নতুন অ্যাম্বুল্যান্স বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে চালক ও তেলের বরাদ্দ না থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা নিজ তত্ত্বাবধানে চালক রেখে হাসপাতালের প্রয়োজনে অ্যাম্বুল্যান্সটি ব্যবহার করছেন।
প্রায় চার লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন চিকিৎসকের স্থলে বর্তমানে একজন ভারপ্রাপ্ত আরএমও, একজন ডেন্টাল সার্জন, একজন ইউনানি চিকিৎসা কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা এবং চারজন চিকিৎসক সীমিত জনবল নিয়ে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
২০১৩-১৪ অর্থবছরে হাসপাতাল চত্বরে ১০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনতলা ভবন, ডরমিটরি ও নার্সিং কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়। ২০১৬ সালের দিকে নতুন ভবন হস্তান্তর করা হলেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবল বরাদ্দ না পাওয়ায় ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। নতুন ভবনে বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রম চললেও পুরনো ভবনেই এখনো ৩১ শয্যার সেবাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এ ছাড়া আন্তঃবিভাগে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। পর্যাপ্ত চিকিৎসক, সরঞ্জাম ও ওষুধের অভাবে এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের মারাত্মক বেগ পেতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহা. মশিউর রহমান বলেন, চিকিৎসক সংকটের কারণে জরুরি সকাল, সন্ধ্যা ও রাতে দায়িত্ব পালন করানো সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। আশা করছি, দ্রুত সব সমস্যার সমাধান হবে।
সূত্র: উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
সিএ/এএ


