জামালপুর সদর উপজেলায় বন্ধুর ছুরিকাঘাতে মো. জিহাদ (১৫) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের নারিকেলী পশ্চিম গহেরপাড় এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। একসঙ্গে বসে খাবার খাওয়ার সময় কথাকাটাকাটির জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
নিহত জিহাদ ওই এলাকার মো. ফিরোজ মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত কিশোর মুন্না (১৫) একই এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। নিহত ও অভিযুক্ত দুজনই স্থানীয় নারিকেলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র।
পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় জিহাদ, মুন্না, সাঈদসহ কয়েকজন কিশোর স্থানীয় জুলহাসের চায়ের দোকানের সামনে বসে মুড়ি ভর্তা খাচ্ছিল। এ সময় কোনো এক বিষয় নিয়ে মুন্নার সঙ্গে জিহাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। কথাবার্তার এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
হাতাহাতির এক পর্যায়ে মুন্না ধারালো অস্ত্র দিয়ে জিহাদের পিঠের পাশে আঘাত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় জিহাদকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, প্রেম সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জিহাদ ও মুন্নার মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধ থেকেই কথাকাটাকাটি এবং শেষ পর্যন্ত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, নিহতের পিঠে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এখনো পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
সিএ/এএ


