ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ। প্রার্থীতা বাছাই শেষে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত হওয়ার পর এ আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
গত ৩ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে ১০ দলীয় জোটের মনোনয়ন জমা দেওয়া তিনজন প্রার্থীরই মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে কে হবেন জোটের একক ও চূড়ান্ত প্রার্থী, তা নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়।
জানা গেছে, এ আসনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট থেকে মোট তিনজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁরা হলেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুল বাতেন, প্রতীক দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নজরুল ইসলাম নজু, প্রতীক হাত পাখা এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতী আমজাদ হোসাইন আশরাফী।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মনোনয়ন বাছাই শেষে এই তিন প্রার্থীরই কাগজপত্র বৈধ পাওয়া গেছে। এর পরপরই ১০ দলীয় জোট থেকে কাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়।
এ বিষয়ে তিন প্রার্থীর সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে কথা বললে প্রত্যেকেই নিজেকে জোটের ‘চূড়ান্ত প্রার্থী’ হিসেবে দাবি করেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল বাতেন বলেন, ‘ইনশাল্লাহ, সব ঠিক ঠাক থাকলে ১০ দলীয় জোট থেকে ‘চূড়ান্ত মনোনয়ন’ আমিই পাব এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনও আমিই করব। সেজন্য আমি নবীনগরবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এবং নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের সদ্য পদত্যাগ করা ইউপি চেয়ারম্যান মুফতী আমজাদ হোসাইন আশরাফী বলেন, ‘এ আসনে ১০ দলীয় জোট থেকে আমাকে ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। যার কারণে আমি এক বছর বাকী থাকতেই ‘চেয়ারম্যান’ পদ থেকে পদত্যাগ করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। সুতরাং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে আমিই চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করব ইনশাল্লাহ। সেজন্য আমিও সবার দোয়াপ্রার্থী।’
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ও সৌদি প্রবাসী ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম নজু বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে আমাকেই এ আসনে ‘চূড়ান্ত প্রার্থী’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পরই আমি এ দলের হয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছি। সুতরাং ১০ দলীয় জোটের ‘চূড়ান্ত প্রার্থী’ যে আমিই পাচ্ছি, সেটি শতভাগ নিশ্চিত ইনশাল্লাহ। সেজন্য আমিও নবীনগরবাসীর কাছে দোয়া চাই।’
তবে তিনজন প্রার্থীই জানিয়েছেন, ১০ দলীয় জোট থেকে শেষ পর্যন্ত যিনি চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হবেন, বাকি দুজন যথাসময়ে তাঁদের নিজ নিজ প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেবেন।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দলের প্রচার ও মিডিয়া সেলের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাতে বলেন, সারা দেশে ১০ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণে জোটভুক্ত দলগুলোর শীর্ষ নেতারা বসে আলোচনা করবেন। আলোচনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি আসনে একজনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে চিঠি পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘জোট যাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে, তিনিই এমপি নির্বাচন করবেন। বাদ বাকী জোটের প্রার্থীরা তাঁদের স্ব স্ব প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেবেন।’ এ প্রসঙ্গে কেউ প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করলে কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রত্যাহার না করার তো কোনো সুযোগই নেই। জোট করলে ১০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্তও সবাইকে মানতে হবে। আর এটিই চূড়ান্ত।’
সিএ/এএ


