পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শাঁখারীকাঠী বালিকা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৮ জন শিক্ষক ও ৩ জন কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন—এমন তথ্য ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৭ মে) দুপুরে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষক অফিসকক্ষে বসে গল্প করছেন, কেউ মোবাইল ফোনে সময় কাটাচ্ছেন, আবার একজন শিক্ষককে ঘুমাতে দেখা যায়। ওই সময় প্রধান শিক্ষক হাজিরা খাতা সই করে আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যালয়টির হাজিরা খাতায় ওই দিন ৩০ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখানো হলেও বাস্তবে ক্লাসে উপস্থিত ছিল মাত্র ৩ জন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এখানে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ২ জন এবং সপ্তম শ্রেণিতে ১ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস করে। অষ্টম শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী ক্লাস করে না বলেও জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী উপস্থিতি খুবই কম থাকলেও তা গোপন করে খাতায় বাড়তি উপস্থিতি দেখানো হচ্ছে।
একটি ক্লাসে উপস্থিত এক শিক্ষার্থী জানায়, তাদের ক্লাসে খুব অল্প শিক্ষার্থী আসে এবং অনেকেই নিয়মিত উপস্থিত থাকে না।
অন্যদিকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জানায়, খাতায় অনেক শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে নিয়মিত ক্লাসে আসে হাতে গোনা কয়েকজন।
বিদ্যালয়ের কৃষি শিক্ষক অরুণ কুমার মিস্ত্রি জানান, ক্লাসে শিক্ষার্থী সংখ্যা খুবই কম, প্রায়ই ১ থেকে ৫ জনের মধ্যে থাকে। বিষয়টি একাধিকবার শিক্ষা অফিসে জানানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
অন্য এক শিক্ষিকা জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিমল চন্দ্র বড়াল সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়লে শিক্ষার্থীর সঠিক তথ্য জানেন না বলে মন্তব্য করেন। পরে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য আর্থিক প্রস্তাব দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
নাজিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জহিরুল আলম বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার (৭ মে)
সিএ/এমই


